দুর্ঘটনা এড়াতে ঘরমুখি মানুষদের নিয়ে নানামুখি উদ্যোগের কথা বলা হলেও এর কোনো
দৃশ্যমান বাস্তবতা নেই। তাই বিগত ঈদের মত এবারও সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানীর আশঙ্কা
প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
শুক্রবার (১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায়
তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঈদে ৯ দিনের লম্বা ছুটি কাটাতে ঢাকা মহানগর থেকে
৯২ লাখ, চট্টগ্রাম মহানগর থেকে ৩১ লাখ, সিলেট থেকে ৮ লাখ, খুলনা থেকে ১২ লাখ, রাজশাহী থেকে
৯ লাখ ও বরিশাল থেকে ৩ লাখ মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে যাবে। এর মধ্যে ৩ লাখ মানুষ ওমরাহ পালনসহ
বিদেশে যাবেন। এছাড়া এক জেলা থেকে অপর জেলায় যাতায়াত করবে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ।
এসব যাত্রীর চাহিদার বিপরীতে দেশে ৩৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ পরিবহণের ঘাটতি আছে। যেখানে ২২
রমজান থেকে ২৭ রমজান পর্যন্ত গণপরিবহন ঘাটতির পরিমাণ ৮৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ২৭ রমজান
থেকে ঈদের আগ পর্যন্ত ১০ গুণ বেশি মানুষ যাতায়াত করে। এ সময় গণপরিবহনের ঘাটতির পরিমাণ
দাঁড়াবে ৩৭৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এই পরিবহণ সঙ্কটকে পুঁজি করে রাস্তায় নানান অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা
ঘটবে।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘গত বছর ঈদে এক সপ্তাহে ১৭৫ জন যাত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও ১
হাজার ১৭১ জন আহত হয়েছেন। তার পূর্ববর্তী দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে তা থেকে প্রতিকারের
উদ্যোগ নেয়া দরকার। অথচ এধরনের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি সরকার।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় দেশের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে ১ হাজার
সেচ্ছাসেবক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু আমরা সেচ্ছাসেবকের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি। আর
সেচ্ছাসেবকরা প্রশিক্ষিত না হলে সড়কে শৃঙ্খলার পরিবর্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে।
তাছাড়া প্রতিটি মহাসড়কে চলমান উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ, বিভিন্ন মহাসড়কে রাস্তার মধ্যে সৃষ্ট গর্ত, ঢাকা ও
চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার নির্মাণ, রাস্তায় বিভিন্ন স্পটে হাট-বাজার বসানোর কারণে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি
বাড়বে। এ ছাড়া দুর্যোগপূর্ণ বর্ষা মৌসুমে নৌ-পথে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির আশঙ্কাও আছে।’
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ
মাহবুবুর রহমান।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল