কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌরুটে যান সঙ্কটে দুর্ভোগে যাত্রীরা

 বিডি নিউজ ৬৪: ঈদ আসতে আরো এক সপ্তাহ বাকি। গত বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে সরকারি ছুটি। যার প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম নৌরুট মাদারীপুর জেলার শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাটে।

শুক্রবার সকাল থেকেই তাই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সকালে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়া পরিবহন সঙ্কট দেখা দিয়েছে শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাটে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে যাত্রী নেয়ার উদ্দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক পরিবহন কাওড়াকান্দি ঘাটে এসে পৌঁছাতে না পারায় সকাল থেকেই যাত্রীদের দুর্ভোগে পরেছে যাত্রীরা। গন্তব্যে ফিরতে তাই গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। এদিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাঁচ্চর থেকে বাখরেরকান্দি পর্যন্ত লেগে রয়েছে তীব্র যানজট।

লঞ্চ, স্পিডবোট, ফেরিতে যাত্রীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে পরিবহনশূন্য ফেরি শিমুলিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও শিমুলিয়া ঘাট থেকে পরিবহন ও যাত্রী বোঝাই হয়েই শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাটে এসে ভিড়ছে। ঘাট থেকে দূর পাল্লার বাস-মাইক্রেবাসসহ বিভিন্ন পরিবহনে গন্তব্যে ছুটে যাচ্ছে ঘরমুখো যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিসির কাওড়াকান্দি ঘাট সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ঢল নেমেছে শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাটে। সকালে হঠাৎ করেই যাত্রী চাপ বেড়ে যাওয়া পর্যাপ্ত সংখ্যক পরিবহন এসে ঘাটে পৌঁছাতে না পারায় ঘাট এলাকায় দুর্ভোগে পড়েছে ঘরমুখো যাত্রীরা। বর্তমানে নৌরুটে ৪টি রোরো ফেরিসহ ১৭টি ফেরি, ৭৭টি লঞ্চ, দুই শতাধিক স্পিডবোট চলাচল করছে এ নৌরুটে।

এদিকে, ঘাটে ঘরমুখো যাত্রীদের নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নৌযানসহ পরিবহনের অতিরিক্ত যাত্রী এবং বাড়তি ভাড়াসহ যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে বলে জানা গেছে।

পরিবহন সঙ্কটের বিষয় নিয়ে কাওড়াকান্দি ঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক উত্তম কুমার পাল বলেন, ‘সকালে হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক যাত্রী এসে পড়ায় পরিবহন সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সকালে দক্ষিণাঞ্চল থেকে পর্যাপ্ত পরিবহনগুলো ঘাটে এসে পৌঁছাতে না পারায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান আহমেদ বলেন, ‘যাত্রীদের ঘরে ফেরা নিশ্চিত করতে কাওড়াকান্দি ঘাটে কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে না ঘটে সেদিকে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। এ বছর প্রশাসনের অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও যোগ দিয়েছে। এছাড়া চুরি, ছিনতাই ও মলমপার্টির ব্যাপারে প্রশাসন সর্তক রয়েছে। আর বাড়তি ভাড়া নেয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। সার্বক্ষণিক আমরা হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করে দিকনির্দেশনা দিচ্ছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *