পোল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিতে রোনালদোর পর্তুগাল

চলতি ইউরোর গ্রুপপর্বে ধুঁকতে থাকা পর্তুগাল এখন স্বরূপে ফিরেছে? খুব একটা ‘না’। অনেকটা রক্ষণাত্মকভাবে খেলে নিজেদের সেভ করার চিন্তায় মত্ত। পাশাপাশি একটি কিংবা দুটি গোল করতে পারাটাই যেন তাদের সামনে পথচলার পাথেয়!

বুহস্পতিবার রাতেও ঘটল একই ঘটল। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে পোল্যান্ডের বিপক্ষে কোনোমতে কার্য উদ্ধার করল পর্তুগাল। এ সময়ে ম্যাচটির ফল ছিল ১-১ গোলের সমতা। এরপর টাইব্রেকার নামক ভাগ্য পরীক্ষায় পোলিশদের  ৫-৩ গোলে হারিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠেছে পর্তুগাল। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে শেষ হাসিটা হাসলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল।

টাইব্রেকারে পর্তুগালের হয়ে গোল করেছেন পাঁচ জন খেলোয়াড়। একে একে পোল্যান্ডের জালে বল জড়ান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, রেনাতো সানচেস, মৌতিনিয়ো, নানি ও রিকার্দো কারেসমা।

পোল্যান্ডের হয়ে লক্ষ্যভেদ করেছেন রবার্ট লেভানদোস্কি, আরকাদিউস মিলিক, কামিল গ্লিক। আর পর্তুগালের জাল কাঁপাতে ব্যর্থ হয়েছেন ইয়াকুব ব্লাসেসকোস্কি। তার দুর্বল শটটি বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক রুই পাত্রিসিও। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায় এখানেই। পোলিশদের আর পঞ্চম শটটি নেয়ার প্রয়োজন পড়েনি।

এর আগে ফ্রান্সের মার্শেইয়ে অনুষ্ঠিত কোয়াটার ফাইনালে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে পর্তুগালের জাল খুঁজে পান লেভানদোস্কি। মিডফিল্ডার কামিল গ্রোসিস্কির সহায়তায় ১২ গজ দূর থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। বায়ার্ন মিউনিখের তারকা এই স্ট্রাইকালের গোলে লিড পায় পোল্যান্ড (১-০)।

ম্যাচের ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের মাথায় করা লেভানদোস্কির এই গোলটি ইউরোর ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। সবচেয়ে দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি রাশিয়ার দিমিত্রি কিরিচেঙ্কোর দখলে। ২০০৪ সালে গ্রিসের বিপক্ষে ৬৫ সেকেন্ডে গোলটি করেছিলেন তিনি।

খেলার ৩৩তম মিনিটে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান রেনাতো সানচেস (১-১)। গোলটির উৎস মুখে ছিলেন নানি। ১৮ বছর বয়সী সানচেসের এটা প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। এই ম্যাচ দিয়েই দেশের পক্ষে সর্বকনিষ্ট খেলোয়াড় হিসেবে বড় প্রতিযোগিতার কোনো ম্যাচে প্রথম একাদশে খেলতে নামলেন এই মিডফিল্ডার। ২০০৪ সালের ইউরোয় আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন রোনালদো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *