লক্ষ্মীপুরে অপহৃত শিশু কুমিল্লায়ে উদ্ধার

বিডি নিউজ ৬৪: লক্ষ্মীপুরে অপহরণের ৯ দিন পর আড়াই মাস বয়সী শিশু ফারজানা ইয়াসমিনকে (মরিয়ম) কুমিল্লা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহরণ নাটকের মূলহোতা মাহিনুর আক্তারকে (২৭) আটক করে তারা।

মঙ্গলবার ভোরে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামের জনৈকা হনুফা বেগমের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত শিশু মরিয়ম সদর উপজেলার মান্দারী ইউপির গন্ধব্যপুর গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের মেয়ে। অভিযুক্ত মাহিনুর লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ গ্রামের মো. নোমানের স্ত্রী। এ ঘটনায় চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিশু মরিয়ম ও অপহরণকারী মাহিনুরের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। এক পর্যায়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশ কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামে জনৈকা হনুফার বাড়িতে মঙ্গলবার ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে ভিকটিম শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত মাহিনুর আক্তার প্রকাশ রুমী বেগমকে আটক করে চন্দ্রগঞ্জ থানায় নিয়ে আসেন। ভিকটিম শিশুটিকে তার মা-বাবার হাতে হস্তান্তর করে পুলিশ।

এর আগে সোমবার (২০ জুন) আড়াই মাসের শিশু মরিয়মকে জামা-কাপড় কিনে দেয়ার কথা বলে কৌশলে মান্দারী বাজার নিয়ে অপহরণ করে মাহিনুর আক্তার (২৭) প্রকাশ রুমী বেগম। এ ঘটনায় রহিমা বেগমের স্বামী ইব্রাহীম খলিল চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করতে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালানো শুরু করে।

ভিকটিমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশু কন্যা মরিয়ম জন্মের ৩ দিন পর অসুস্থ হলে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করালে ইব্রাহিম খলিলের স্ত্রী রহিমা বেগমের সঙ্গে মাহিনুর বেগম প্রকাশ রুমী বেগমের পরিচয় হয়। সুচতুর মাহিনুর রহিমা বেগমকে বোন বলে ডাকেন। এ সুবাধে প্রায় মাহিনুর মোবাইলে রহিমা বেগম এবং তার স্বামী সন্তানদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তোলে।

গত ১৯ জুন (রোববার) রহিমা বেগমের বাড়িতে বেড়াতে আসেন মাহিনুর প্রকাশ রুমী বেগম। রহিমা বেগমও বোনকে তার সাধ্যমতো আপ্যায়ন করেন। পরদিন (২০ জুন) সোমবার রহিমা বেগমের মেজো মেয়ে পলি আক্তার (৮) ও আড়াই মাসের শিশু মরিয়মকে জামা-কাপড় কিনে দেয়ার কথা বলে কৌশলে মান্দারী বাজার নিয়ে যায়। এরপর মান্দারী বাজারের একটি কাপড় দোকানে পলিকে বসিয়ে রেখে শিশু মরিয়মকে নিয়ে পালিয়ে যায় মাহিনুর।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নাটকীয় এ ঘটনার মূল হোতা মাহিনুর প্রকাশ রুমী বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ভিকটিম শিশুটিকে তার মা-বাবার কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *