শেষ ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে কুমিল্লার মুরাদনগরে ব্যাপক ভোট ডাকাতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
গত ৬ জুন মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. শেখ জাকিরের দায়েরকরা এমনই একটি অভিযোগ আমলে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগের বিষয় তদন্তে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
গত ২২ জুন বুধবার নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে ৫ কর্ম দিনের মধ্যে তদন্ত করে এর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা নির্বাচন অফিসের সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম এ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশন থেকে এমন একটি নির্দেশনা পেয়েছি এবং ২৭ জুন সোমবার মুরাদনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি শোনানির দিন ধার্য করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এজন্যে অভিযোগকারী, অভিযুক্ত এবং অন্যান্য প্রার্থী ও নির্বাচনে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ প্রামাণাদিসহ উপস্থিত থাকার জন্যে চিঠি দেয়া হয়েছে।’
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. শেখ জাকিরের দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, শেষ ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের মতো বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের ব্যাপক অনিয়ম সংগঠিত হয়েছে। এ ইউনিয়নের খামারগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, বিষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং যোগীরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ যাবতীয় অনিয়ম সংগঠিত করেছে চশমা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজি আবদুল মান্নানের কর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা।
প্রার্থী মো. শেখ জাকিরের দায়েরকৃত ওই অভিযোগে প্রদত্ত এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের খামারগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২৪শ ৭ জন। এ কেন্দ্রে ভোট কাস্ট হয়েছে ২৩শ ৭০টি। যার শতকরা হিসেব দাঁড়ায় ৯৮.৪৬ ভাগ। এখানে ইতোমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছে এমন ভোট রয়েছে ১৫৭টি, প্রবাসে আছেন এমন ভোটার রয়েছেন ৩৫৩টি, ভোটের দিন নির্বাচনের কাজে অন্যত্র দায়িত্বরত ছিলেন এমন ভোটারের সংখ্যা ২২ জন। অথচ মোট ভোট ও কাস্টিং ভোটের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ৩৭টি।
একইভাবে বিষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৩শ ৫৯ জন। একেন্দ্রে ভোট কাস্ট হয়েছে ১২শ ৪৯টি। যার শতকরা হিসেব দাঁড়ায় ৯১.৯১ ভাগ। এখানে ইতোমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছে এমন ভোট রয়েছে ৪৭টি, প্রবাসে আছেন এমন ভোটার রয়েছেন ১২৫টি, ভোটের দিন নির্বাচনের কাজে অন্যত্র দায়িত্বরত ছিলেন এমন ভোটারের সংখ্যা ০৩ জন। অথচ মোট ভোট ও কাস্টিং ভোটের মধ্যে ব্যাবধান মাত্র ১১০টি ।

এছাড়া যোগীরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৮শ ৭৮ জন। একেন্দ্রে ভোট কাস্ট হয়েছে ৮শ। যার শতকরা হিসেব দাঁড়ায় ৯১.১২ ভাগ। এখানে ইতোমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছে এমন ভোট রয়েছে ৩৭টি, প্রবাসে আছেন এমন ভোটার রয়েছেন ৮০টি। অথচ মোট ভোট ও কাস্টিং ভোটের মধ্যে ব্যাবধান মাত্র ৭৮টি।
অভিযোগকারী প্রার্থী মো. শেখ জাকিরের সঙ্গে মোবাইলে আলাপকালে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার দায়েরকৃত ওই অভিযোগে প্রদত্ত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে যে কেউ অনুধাবন করতে পারবেন কতোটা অনিয়ম হয়েছে আমার ইউনিয়নের খামারগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, বিষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং যোগীরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এখানে কী পরিমাণ জালভোট, কেন্দ্র দখল ও ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ যাবতীয় অনিয়ম সংগঠিত করেছে চশমা প্রতীকের প্রার্থী হাজী আবদুল মান্নানের কর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা তাও এই পরিসংখ্যান থেকেই প্রকাশ পাবে।’
তিনি বলেন, ‘শুধু প্রতিবেদনই নয়, অনিয়মের ভিডিও ফুটেজও আছে আমাদের হাতে। বিশেষ করে খামারগ্রাম কেন্দ্রে চ্যানেল আইসহ আরো কয়েকটি টিভি চ্যানেল ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক ওই কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। আর যোগীরখিল কেন্দ্রটি একটু দুর্গম স্থানে হওয়াতে সাংবাদিকরা সেখানে যেতে পারেননি।’
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হাজি আবদুল মান্নান এসব অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল