২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ভালো, ভারতীয় হাই কমিশনের কাছ থেকে এ ধরনের কথা শুনলে বিএনপি কষ্ট পায় বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
রমজানের ১৮তম দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়াপল্টনের গোল্ডেন প্লেট রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলা প্রত্যাহার ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কটূক্তির প্রতিবাদে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পদের চেয়ে রাজপথ বড় এমন দাবি করে বিএনপির নতুন কমিটিতে নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘পদ নয়, পথ (রাজপথ) বড়। সুতরাং পদের পেছনে না ছুটে পথ খুঁজুন। রাজনীতিবিদের জন্য রাজপথই আসল ঠিকানা। তাই ঘরে না থেকে রাজপথে নামুন। আমরা যদি রাজপথে থাকতে না পারি, তাহলে বড় পদ দিয়ে কিছু হবে না। এক সময় ওই পদ তিরস্কারের বস্তুতে পরিণত হবে।’
বিএনপিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য সরকার নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করছে। কিন্তু বিএনপি মরে নাই। যতো চেষ্টাই করা হোক না কেন, বিএনপিকে নির্মূল করা যাবে না। কারণ, এই দলটি জাতীয়তাবাদী চেতনার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমরা অবশ্যই বন্ধুত্ব চাই। তবে সে বন্ধুত্ব হতে হবে সমতার ভিত্তিতে। দেশবাসী চায়, ভারত কোনো ব্যক্তি কিংবা দলের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব করুক। তারা আরো চায়, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ইতিবাচক মানসিকতা প্রদর্শন করুক। এক্ষেত্রে তাদের ইতিবাচক সহযোগিতা-সহমর্মিতা থাকা ভালো।’
তিনি দাবি করে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড হলে বিএনপি তার প্রতিবাদ করবেই। অতীতেও প্রতিবাদ করেছে, এখনোও করছে, ভবিষ্যতেও করবে। কারণ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ত দিয়ে কেনা। কারো তাবেদারি করার জন্য এই স্বাধীনতা নয়।’
এ প্রসঙ্গে গয়েশ্বর আরো বলেন, ‘ভারতীয় হাই কমিশনের কাছ থেকে যখন শুনি যে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ভালো, তখন আমরা কষ্ট পাই। আমরা সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। তবে কেউ আমাদের ছোট বলে প্রভূত্ব ও দাদাগিরি দেখাবে, সেটা আমরা মেনে নিতে পারি না।’
বিএনপি জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত দল উল্লেখ করে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী চেতনায় সমৃদ্ধ বিএনপি শুধু ক্ষমতার জন্য যদি কারো সাথে আপোষ করতে চায়, তাহলে বিএনপির প্রতি জনগণের এই ভালোবাসা-দরদ হয়তো থাকবে না। সে কারণে আমাদের রাজনীতিকে আমাদের লালন করতে হবে। আমরা বিরোধী দলে আছি, ২০১৯ সাল কেন যতোদিন থাকতে হয় থাকবো। কিন্তু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা ক্ষমতায় যাবো। আমরা যেদিন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো, একানব্বই সালের মতো জনগণ সেদিন যদি আমাদের দায়িত্বভার দেয়, তাহলে সেদিনই আমরা দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করবো।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ইফতার মাহফিলে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাবির শিক্ষক অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, খিলগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি ইউনূস মৃধা, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হাজী মো. লিটন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন খান পিপিএম, সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন সর্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান নয়ন, ‘সিটি ও পৌর ফেডারেশন’র মহাসচিব এসএম মোশাররফ হোসেন মিলন, জিনাফ সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বেপারী প্রমুখ।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল