ব্রিটিশদের ইউরোপ ভ্রমণে খরচ কি বাড়বে?

ইউরোপের সাথে ব্রিটেনের যোগাযোগ পোক্ত হয়েছিল ১৯৭৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ ৪১ বছর পর সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার সময় হলেও ব্রিটেনবাসীর সাথে ইউরোপের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে এই সম্পর্ক প্রকট হয় যখন যখন ব্রিটিশরা অবসরে ইউরোপ ভ্রমণে বের হয়।

গ্রীষ্মকালেই মূলত ইউরোপ ভ্রমণে বের হন ব্রিটেনবাসী। কিন্তু বৃহস্পতিবারের গণভোটে ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ভোটের ফলাফলের খানেক পরেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন, অর্থনীতিতে ধস নেমেছে, এমনকি স্কটল্যান্ড এখন স্বাধীনতা চাইছে। কিন্তু ব্রিটেনের সাধারণ মানুষের খবর কি? ব্রেক্সিট তাদের ইউরোপ ভ্রমণে কি প্রভাব ফেলবে?

ভোটের ফলাফল প্রকাশের সাথে সাথেই গত ৩০ বছরের মধ্যে ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ডের পতন ঘটেছে। এর মানে হচ্ছে ব্রিটেনের বাইরে কফি থেকে শুরু করে হোটেল ভাড়া সবকিছুর দাম বেশি হবে। পাউন্ডের দাম কততে গিয়ে ঠেকে তার উপরে এই দাম বৃদ্ধির মাত্রা নির্ভর করছে।

পাউন্ডের বিপরীতে যখন ইউরো শক্তিশালী হবে তখন ভ্রমণের সামগ্রিক খরচ বৃদ্ধি পাবে। সেই খরচের চাপ পড়বে ব্যক্তিবিশেষেও। ফলে প্যাকেজ ভ্রমণের আয়োজন করছে এমন কোম্পানিগুলো দাম বাড়াবে প্যাকেজের।

তাছাড়া ১৯৯৪ সাল থেকে যে কোন ইইউ এয়ারলাইন্স ইউরোপের এক মাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই বিমান ভ্রমণ করতে পারতো। কিন্তু ব্রেক্সিটের ফলে আকাশসীমা নিয়ে পুনরায় আলোচনায় বসতে হবে নেতাদের। বাধ্যবাধকতা মানেই সস্তা প্লেনের টিকিট আর সস্তা থাকবে না।

ব্রিটেনের ইউরোপ ত্যাগে শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। বড় ধরনের ঝাকি খেয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। এই ঘাটতি পোষাতে কতদিন লাগবে সেটা এখনো অজানা। অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইউরোপ ভ্রমণের খরচ বৃদ্ধি পাবে। কতটা বৃদ্ধি পাবে সেটা নির্ভর করবে কতদ্রুত যুক্তরাজ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে পারবে তার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *