ধর্ষিতাকেই উল্টো সাজা দিল কাতারের আদালত

বিডি নিউজ ৬৪: লাউরা নামে ২২ বছর বয়সী নেদারল্যান্ডসের এক তরুণী কাতারে গিয়েছিলেন বেড়াতে। সেখানেই এক সিরীয় কৌশলে তাকে ধর্ষণ করে। কাতার পুলিশরে কাছে অভিযোগ জানালে উল্টো গ্রেপ্তার করা হয় লাউরাকে।

জানা গেছে, কাতারের এক নাইটক্লাবে এক সন্ধ্যায় নাচছিলেন। নাচের ফাঁকে সামান্য মদ্যপানও করেন। কিন্তু যে পরিমাণ মদ্যপানে কোনো সমস্যাই হওয়ার কথা নয়, তা পান করার পরই অচেতন হয়ে যান লাউরা।

যখন তার জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি কোনো এক ব্যক্তির ফ্ল্যাটে শুয়েছিলেন। তার শরীরের কাপড় ছেঁড়া। তিনি বুঝতে পারেন তাকে মাদক দিয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করা হয়েছে।

কাতার পুলিশরে কাছে অভিযোগ জানালে, ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। সেইসঙ্গে নিজের ধর্ষণের কথা জানানোয় গ্রেপ্তার করা হয় লাউরাকেও। কারণ দাম্পত্যের বাইরে যৌন সম্পর্ক দণ্ডনীয় অপরাধ সেই দেশে।

লাউরার অভিযোগ, তাকে মদের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। যার রুমে তাকে নেয়া হয়েছিল তার নাম ওমর আব্দুল্লাহ আল-হাসান। তার বিরুদ্ধেই ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন লাউরা।

কিন্তু সিরীয় নাগরিক ওমরের দাবি, সেই রাতে যৌনমিলন লাউরার সম্মতিতেই হয়েছে। যৌনমিলনের জন্য লাউরা তার কাছে টাকা চেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন ওমর। তবে তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন ওই তরুণী।

এদিকে কাতারের আদালত ওমরকে অবৈধ যৌনমিলনের অভিযোগে ১০০ বার এবং মদ্যপানের অভিযোগে ৪০ বার বেত্রাঘাতের শাস্তি ঘোষণা করেছে। আদালতের আদেশে আরো বলা হয়েছে, বত্রাঘাতের ধকল সহ্য করার স্বাস্থ্যগত সামর্থ আছে কি না তা পরীক্ষা করেই ওমরের শাস্তি কার্যকর করা হবে। তারপর তাকে সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে।

পাশাপাশি লাউরার বিরুদ্ধেও শাস্তি ঘোষণা করেছেন কাতারের আদালত। গত ১৪ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ব্যভিচারের অভিযোগে তাকে ৩ হাজার কাতারি রিয়াল (৮৪৫ ডলার) জরিমানা করে কাতারের আদালত।

আদেশে আরো বলা হয়, একই ‘অপরাধ’ আবার করলে লাউরাকে এক বছর কারাভোগ করতে হবে। অবশ্য তিনি এখন মুক্ত। জরিমানার টাকা পরিশোধ করলেই নিজের দেশে ফিরতে পারবেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *