বিডি নিউজ ৬৪: স্ত্রী নির্যাতনে অভিযুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের স্ত্রী তানিয়া থানায় যে অভিযোগ করেছেন, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন সোহেল।
গত সোমবার এ নিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ, সেদিন রক্তাক্ত অবস্থায় তানিয়া খান সোহেলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছেন।
তবে ওই সময় এ নিয়ে সোহেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর সোহেল তার ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন, যেখানে তিনি স্ত্রী তানিয়া খানকে ‘মানসিক রোগী’ দাবি করেছেন।
মারুফ কামাল খান লিখেছেন, “এমন শোচনীয় বিপর্যয়ের কথা কল্পনাও করিনি। আমি নিজে অসুস্থ। ছোট ছেলেটি চিকিৎসাধীন। সরাসরি রাজনীতি না করলেও আমার কাজের রাজনৈতিক সংশ্লেষের কারণে অনেকগুলো রাজনৈতিক মামলায় আমার স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপন্ন। এই অবস্থায় সুদীর্ঘকাল ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ আমার স্ত্রী অভাবনীয় অভিযোগ করেছেন আমার বিরুদ্ধে পুলিশ স্টেশনে। তাঁর চিকিৎসা আমি দীর্ঘকাল করিয়েছি ঢাকার ‘মুক্তি’ হাসপাতালে কয়েকদফা রেখে। দেশের খ্যাতনামা মনরোগ বিশেষজ্ঞরাই তাঁর চিকিৎসা করেছেন। এখন আর্থিক ও অন্যান্য অসামর্থ্যের কারণে তাঁর প্রয়োজনীয় মানসিক চিকিৎসা করাতে পারছি না।
তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমার বাসায় পুলিশ এসে ছেলেমেয়েদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাদের বিরুদ্ধেও তিনি অভিযোগ করেছিলেন। যাই হোক, এমন বিপন্ন সময়ে আমার বলার এমনকি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও খুব সীমিত। এমন একজন ভায়োলেন্ট সিজিওফ্রেনিয়াক রোগী এত বছর ধরে সামাল দেয়া যে কত কঠিন কাজ সেটা ভুক্তভোগী ছাড়া কারো পক্ষে অনুধাবন করা কঠিন। আমি বুঝি এবং আমার দুর্ভাগা সন্তানেরা জানে এমন পরিবেশে জীবন কত কঠিন ও দুর্বহ।”
স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে সোহেলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী প্রেস সচিব মহিউদ্দিন খান মোহন। তিনিও ফেসবুকে এ নিয়ে পৃথক দুটি পোস্ট দিয়েছেন।
একটিতে মোহন লিখেছেন, ‘আজ (১৪/০৬/২০১৬) বিকালে মনটা ভাল হয়ে গেল। এক সাংবাদিক বন্ধু জানালেন পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে মাথা ফাটানোর অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল সোহেলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে। খবরটা শুনে মনে প্রশান্তি অনুভব করলাম। এই ভণ্ডটা আমার রাজনৈতিক জীবনটাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এ শয়তানটা ২০০৯ এর কাউন্সিলের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে আমার নামটা বাদ দিয়েছে। ওর কারণে বিএনপির গুলশান অফিসে আমার নামটা কেউ উচ্চারণ করতে পারে না। আমার অপরাধ, আমি এ নষ্ট মানুষটার কিছু অন্যায় ও অপকর্মের প্রতিবাদ করেছিলাম। আমি আল্লাহর দরবারে নালিশ করেছিলাম। আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন আমার ফরিয়াদ শুনেছেন। ইবলিশটার শাস্তি হচ্ছে আজ।বাকি থাকল আরেক শয়তান শিমুল বিশ্বাস। ইনশা আল্লাহ ওই শয়তানটার বিচারও আল্লাহ নিশ্চয় করবেন। কেন না তিনি ন্যায় বিচারক।’
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল