বিডি নিউজ ৬৪: সিট দখলকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ হবিবুর রহমান হলের ছাত্রমৈত্রীর এক কর্মীকে মারধর করেছে রাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ওই হলে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মুনীর হোসেন বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রমৈত্রীর কর্মী। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হল সূত্র জানায়, ছাত্রমৈত্রীর দপ্তর সম্পাদক সবুজ হবিবুর রহমান হলের ২৫৩ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি ৩১৩ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী সারওয়ার হোসেনের সাথে সিট বদল করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সারওয়ারের রুমমেট ও ছাত্রলীগ কর্মী মনজেল সেই সিটে অন্য আরেকজনকে ওঠাতে চাচ্ছিলেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সারওয়ার সিট বদল করে সবুজের কক্ষে চলে আসে। কিন্তু সবুজ যখন তার সংগঠনের কয়েকজনের সহযোগিতায় জিনিসপত্র নিয়ে সারওয়ারের কক্ষে যায়, তখন সারওয়ারের রুমমেট মনজেল কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়। এসময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও মনজেলের সাথে যোগ দেয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে ছাত্রলীগের কয়েকজন মিলে সবুজের সহযোগী মনীর হোসেনকে ধাওয়া দিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত ও হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন ও সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ এবং বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি মিনহাজ আবেদীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।
ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি মিনহাজ আবেদীন বলেন, ‘ওই সিটে ছাত্রলীগের কাউকে উঠানোর জন্য হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
হল ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নেই। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, ‘হলে সিট বদল নিয়ে মনজেলের সহযোগী ও সবুজের সহযোগীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।’ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
এদিকে এই ঘটনার পর হবিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ এক্রাম উল্যাহর সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।