নওগাঁয় চুলের জট ছাড়িয়ে স্বাবলম্বী
নওগাঁয় চুলের জট ছাড়িয়ে স্বাবলম্বী

নওগাঁয় চুলের জট ছাড়িয়ে স্বাবলম্বী

বিডি নিউজ ৬৪: গত আট বছর আগে সেলিনা বেগমের স্বামী ছেড়ে দেয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন গরীব বাবার বাড়িতে। গ্রামের বিভিন্ন জনের বাড়িতে কাজ করে কষ্টে কোনো রকম দিন পার করতেন তিনি। গত তিন বছর আগে সেকেন্দার আলীর চুলের কারখানায় মাসে ১৫শ টাকা বেতনে কাজ শুরু করেন।

প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এ কারখানায় কাজ করতে হয়। এ কারখানায় কাজ করে এখন টিনের দুই ঘর দিয়েছেন সেলিনা বেগম। হাঁস-মুরগির পাশাপাশি পালন করছেন দুইটা ছাগল। আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন। নওগাঁর মান্দা উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে নিজ বাড়িসহ তিনটি গ্রামে পাঁচটি চুল প্রক্রিয়াকরণ কারখানা করে প্রায় তিন শতাধিক হতদরিদ্র নারীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছেন সেকেন্দার আলী। শুধু হতদরিদ্র নারী নয়, কাজ করছেন শিক্ষার্থীরাও।

এ কারখানায় কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক দরিদ্র নারী। এ কারখানার শুরু থেকে কাজ করছেন মাহফুজা বেগম। তিনি বলেন, অভাবের সংসা, চারজন সদস্য। স্বামী অসুস্থ, শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। ছেলে রাজশাহীতে অর্নাসে দ্বিতীয় বর্ষে লেখাপড়া করে। এখানে কাজ করে যে টাকা পান তা ছেলের কাছে পাঠান। ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার লক্ষ্যে কষ্টে করে চুলের কারখানায় কাজ করছেন। এখানে কাজ না করলে হয়তো ছেলেকে রাজশাহীতে পড়ানো সম্ভব হতো না। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের হতদরিদ্র নারীরা অপরিষ্কার ও জটলা বাধা চুল এ কারখানায় পরিষ্কার করেন।

সাংসারিক কাজ শেষ করে আসেন কারখানায়। অনেকে মাস ভিত্তিক আবার অনেকে দিন হিসেবে কাজ করেন। আর এ থেকে প্রাপ্ত আয় তাদের সংসারে কাজে লাগান। আবার অনেকে নিজেদের সৌখিন কাজে ব্যবহার করেন। সংসারে অভাব থাকায় দুই বছর আগে মঞ্জুআরা বেগম কারখানায় কাজ শুরু করেন। স্বামী ভ্যান চালক।

এখানে কাজ করে গত বছর ২৩ হাজার টাকায় ১০ কাঠা জমি বন্ধক নিয়েছেন। এছাড়া হাতের সোনার বালা ও কানের দুল নিয়েছেন। যা ভ্যান চালিয়ে স্বামীর পক্ষে হয়তো সম্ভব হতো না বলে জানান। ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুন ও ৮ম শ্রেণির রিপা বলে, শুক্রবার ও ছুটির দিনগুলোতে কারখানায় কাজ করে তারা।

এ কাজের টাকা তাদের কসমেটিক সামগ্রী, লেখাপড়ার খরচ ও ছোটখাটো কাজে ব্যয় করা হয়। এ কারখানায় কাজ করছেন সামিরন, রওশন আরা, মরিয়মসহ ৪৫জন নারী শ্রমিক। সবারই সংসারে এসেছে স্বচ্ছলতা। কারাখানার মালিক সেকেন্দার আলী জানান, ২০১৩ সালে প্রথমে একটি কারখানা দিয়ে শুরু করলেও এখন পাঁচটি কারখানা দিয়েছেন। পাচঁটি কারখানায় প্রায় তিন শতাধিক হতদরিদ্র নারী শ্রমিক রয়েছে। প্রতিজন শ্রমিকের বেতন মাসে ১৫শ টাকা। অনেক নারী স্বামীর কাছ থেকে টাকা চেয়ে পায় না।

এ নিয়ে ঝগড়া হয়। গ্রামের যারা হতদরিদ্র নারী আছে তাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টির জন্য এ পদ্ধতি বেছে নিয়েছন। তিনি আরও জানান, প্রতি সপ্তাহে ঢাকা থেকে ৫০-৬০ কেজি চুল নিয়ে আসতে হয়। প্রতিদিন প্রতিটি কারখানায় ১০ কেজি করে চুলের প্রয়োজন হয়। প্রতিকেজি ৪ হাজার টাকা দরে কিনে কারখানায় চুলের জট ছাড়িয়ে পরিষ্কার, শ্যাম্পু ও শোধনের পর ৭-৮ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। সেকেন্দার আলী বলেন, জমিজমা নেই। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্যই এ পেশা। ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ না পাওয়ায় বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে টাকা তুলে এ ব্যবসা শুরু করেছি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *