বিডি নিউজ ৬৪: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিকেরা তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণের দাবি জানিয়েছে। আগামী ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে এ দাবি মেনে নেওয়া না হলে ১৪ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বড় পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের সংগঠন শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ রবিউল ইসলাম কালের কন্ঠকে জানান, ১ হাজার ৪১জন শ্রমিক এখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ভূ-গর্ভ থেকে কয়লা তুলে আনছেন। কিন্তু এসব শ্রমিকেরা তাদের ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না। রবিউল ইসলাম বলেন, খনি চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫জন শ্রমিক এখানে মারা গেছেন। খনির অভ্যন্তরে অত্যাধিক গরমের কারণে মাসে ২০দিনের বেশি কাজ করা সম্ভব হয়না তাদের। খনিতে কর্মরত সাধারণ শ্রমিকদের মজুরি প্রতিদিন ২৯৭টাকা এবং ভূ-গর্ভে কাজ করা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩৫০টাকা বলে তিনি উল্লেখ করেন। এখানকার শ্রমিকেরা মাসে ৮হাজার টাকার বেশি বেতন পাননা। কিন্তু খনি কর্মকর্তারা মাসে ১৭ থেকে ১৮দিন কাজ করে লক্ষ্যধিক টাকা বেতন উত্তোলন করেন। সেই সাথে প্রফিট বোনাসের নামে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ করেন সভাপতি রবিউল ইসলাম।
সংগঠনের সাধারন সম্পাদক আবু সুফিয়ান বলেন, গত ২০১১ সাল থেকে শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী করার দাবি জানানো হচ্ছে। উল্লেখ্য গত বৃহস্পতিবার খনির প্রধান গেটে সকাল ১১টায় খনি শ্রমিকদের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশ থেকে চাকরি স্থায়ীকরনের দাবি মেনে নেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মোঃ রবিউল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক।
এব্যপারে জানতে চাইলে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এসএম নূরল আওরঙ্গজেব জানান, কর্মরত শ্রমিকেরা আউট সোর্সিং এর নিয়োগপ্রাপ্ত। তারা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিএমসি ও এসএমসির অধীনে কর্মরত। ২০১১ সাল থেকে তাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী বেতনভাতা পাচ্ছে। আগামীতে উপযুক্ত বেতন ভাতার ব্যপারে কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড দেখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল