সৈয়দপুরে সপ্তম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী বাল্য বিয়ের শিকার
সৈয়দপুরে সপ্তম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী বাল্য বিয়ের শিকার

সৈয়দপুরে সপ্তম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী বাল্য বিয়ের শিকার

বিডি নিউজ ৬৪: সৈয়দপুরে বাল্য বিয়ের শিকার সপ্তম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী। সে নিরাপত্তাহীনতায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষের আশ্রয়ে রয়েছে। এদিকে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক বাল্য বিয়ে দেওয়ায় অভিযুক্ত বাবা নবিউল ইসলাম কালাকে গত তিন দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনার পর ওই মাদ্রাসাছাত্রী (১২) সহপাঠিদের নিয়ে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ঘেরাও করে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাল্য বিয়ের শিকার ওই মাদ্রাসাছাত্রী উপজেলার ১ নম্বর কামারপুকুর ইউনিয়নের নিজবাড়ী আলোকদিপাড়া গ্রামের মুরগি ব্যবসায়ী নবিউল ইসলাম কালার মেয়ে ও আইসঢাল খিয়ারপাড়া আলিম অ্যান্ড ভোকেশনাল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। গত বুধবার রাতে তার বিয়ে ঠিক হয় পাশের রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার রাজমিস্ত্রী লুত্ফর রহমানের সঙ্গে। এ ঘটনাটি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে গভীর রাতে পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিয়ে গিয়ে বৃহস্পতিবার ছাত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাল্য বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। এর আগে ওইদিন বিকেলে মেয়েটি ঘটনাটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও তার সহপাঠীদের জানায়। পরে সহপাঠী ও শিক্ষকদের নিয়ে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ প্রদান করে।

বাল্য বিয়ের শিকার ওই মাদ্রাসাছাত্রীর সঙ্গে আজ শনিবার বিকেলে কথা হলে সে জানায়, এর আগেও তার বাবা তিন দফায় তার বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। তার আপত্তির কারণে তাকে বাল্য বিয়ে দিতে পারেননি তার বাবা-মা। এ সময় সে আরো জানায়, লেখাপড়া শিখে সে প্রশাসনের একজন বড় কর্মকর্তা হয়ে দেশ ও দেশের সেবা করতে ইচ্ছুক।

এ প্রসঙ্গে আইসঢাল খিয়ারপাড়া আলিম অ্যান্ড ভোকেশনাল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আফজাল বিন নাজির জানান, ওই ছাত্রীর লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ রয়েছে। পরিবারের শত বাধাবিপত্তি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সে নিজের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রতিষ্ঠানগতভাবে তাকে সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান অব্যাহত রেখেছি।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, ছাত্রীর বাবাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তারের চষ্টো চলছে। তিনি গা ঢাকা দেওয়ায় তার হদিস মিলছে না। তবে তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *