বিডি নিউজ ৬৪: বকশীগঞ্জের গোয়ারপাড়া গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে বর কনে উভয়ের বাড়িতেই চলছিল বাল্য বিয়ের ধুমধাম। এ খবরে হঠাৎ সেখানে পুলিশের আগমনে স্কুল ছাত্রী কনের বাড়ী থেকে বিয়ের আগেই পালিয়ে গেছে বরযাত্রী। ভেঙে গেছে বাল্য বিয়েটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার দুটির সীমানা ঘেষা পাশাপাশি দুই গ্রাম আগুনেরচর ও গোয়ারপাড়া। বরের বাড়ি ইসলামপুরের আগুনেরচর এবং কনের বাড়ী বকশীগঞ্জের গোয়ারপাড়া গ্রামে। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই বর কনে উভয়ের বাড়িত্ইে চলছিল বিয়ের ধুমধাম। একপর্যায়ে ওইদিন রাত ৯ টায় বরযাত্রী গিয়ে উঠে কনের বাড়ি বকশীগঞ্জের সাজিমারা এলাকার গোয়ারপাড়া গ্রামে। আগুনেরচর গ্রামের মনোহর আলীর পুত্র ওই বিয়ের বর আল আমিনের বযস ২১ বছর হলেও গোয়ারপাড়া গ্রামের জহুর আলীর কন্য সারমিনের বয়স মাত্র ১২ বছর। শিশু সারমিন সাজিমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। একেবারে বাল্য বিয়ের আয়োজন। স্কুল ছাত্রীর সাথে ওই বাল্য বিয়ের আয়োজনে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এলাাকার কতিপয় সচেতন নাগরিক। তারা তাৎক্ষনিকভাবে বিষয়টি কালের কণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক আজিজুর রহমান চৌধুরীকে জানান। এরপর সাংবাদিক আজিজুর রহমান চৌধুরী ওই বাল্যবিয়ে আয়োজনের খবরটি জামালপুর জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাবুদ্দিন খানকে অবহিত করেন। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ইসলামপুরের এবিএম এহছানুল মামুন ও বকশীগঞ্জের ইউএনও আবু হাসান সিদ্দিক দ্রুত বাল্যবিয়েটি বন্ধের উদ্যোগ নেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বকশীগঞ্জ থানার এস আই আব্দুর আজিজ এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ হাজির হয় গোযারপাড়া গ্রামে। একপর্যায়ে বিয়ে বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কনের বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় বরযাত্রী। অবশেষে ভেঙ্গে গেছে বাল্য বিয়েটি।
এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাবুদ্দিন খান জানান, ইসলামপুরের ইউএনও এবিএম এহছানুল মামুন এবং বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসান সিদ্দিক ও বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের জরুরী হস্তক্ষেপে একজন স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিয়ে বন্ধ হয়েছে। এতে একটি স্কুল ছাত্রী বাল্য বিয়ের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে জেনে খুশি হয়েছি।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল