গোপালগঞ্জে বিষপানে অন্ত:স্বত্বা গৃহবধূর আত্মহত্যা
গোপালগঞ্জে বিষপানে অন্ত:স্বত্বা গৃহবধূর আত্মহত্যা

গোপালগঞ্জে বিষপানে অন্ত:স্বত্বা গৃহবধূর আত্মহত্যা

বিডি নিউজ ৬৪: গোপালগঞ্জে যৌতুক লোভী স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে অন্ত:স্বত্বা এক গৃহবধূ বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে গোপালগঞ্জ আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত মুক্তি বিশ্বাস সদর উপজেলার নিজড়া গ্রামের মৃত তারাপদ দাসের মেয়ে ও একই উপজেলার পদ্মবিলা গ্রামের পরেশ বিশ্বাসের স্ত্রী।

মৃত গৃহবধূর মা কনিকা দাস জানান, তার মেয়েকে তিন বছর আগে পার্শ্ববর্তী কাশিয়ানী উপজেলার কড়িগ্রামের নৃপেন বিশ্বাসের ছেলে পরেশ বিশ্বাসের সাথে বিয়ে দেন। বিয়ের পর পরেশ বিশ্বাস সদর উপজেলার বৌলতলী সাহাপুর সম্মিলনী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষকের চাকরি নেন। সে সময়ে তারা তাকে নগদ টাকা যৌতুক দিয়ে চাকরি পাইয়ে দেন। এরপর পরেশ বিশ্বাস মুক্তিকে নিয়ে বৌলতলী বাজারের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত। কিছু দিন আগেও পরেশ বিশ্বাস জরুরী প্রয়োজনের কথা বলে মুক্তিকে চাপ দিয়ে আরো ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নেয়। পরবর্তীতে পরেশ বিশ্বাস তার নামে এক বিঘা আলু চাষের জমি বাবার বাড়ি থেকে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছিল। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী প্রতিনিয়ত মুক্তিকে শারিরিক নির্যাতন করে আসছিল। এসব অত্যাচার সইতে না পেরে গতকাল সোমবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে মুক্তিকে গভীর রাতে ঘর থেকে বের করে দেয়। আজ মঙ্গলবার সকালে তাদের ভাড়া বাসা থেকে রাস্তায় বেরিয়ে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে মুক্তি। বিষপানের পর মূমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে নেওয়ার পর মুক্তিকে মৃত ঘোষণা করায় তার লাশ ফেলে পালিয়ে যায় স্বামী পরেশ বিশ্বাস ও তার স্বজনরা।

এ বিষয়ে স্থানীয় বৌলতলী ইউনিয়নের মেম্বার চঞ্চল রায় বলেন, পরেশ মাষ্টার ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়া লেগেই থাকত। গতকাল সোমবার রাতে পরেশ মাষ্টার তার স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেয়। রাতে অনেক লোকজন এসে আমাকে বিষয়টি জানালে তাদের নিয়ে অনেক খোঁজাখুজি করে পাওয়া যায়নি। পরে সকালে জানতে পারি পরেশ মাস্টারের স্ত্রী  বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। এর পর থেকে পরেশ মাষ্টার গা ঢাকা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক পরেশ বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মোঃ সেলিম রেজা জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনও কোন অভিযোগ আসেনি। ময়না তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *