বিডি নিউজ ৬৪: একের পর এক মাইলফলক আসছে ভারতীয় ক্রিকেটে। জয় দিয়ে দারুণভাবে সেগুলো স্মরণীয় করে রাখছে টিম ইন্ডিয়া। ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের যাত্রাটাও জয় দিয়ে করলো স্বাগতিক ভারত। পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি ৬ উইকেটে জিতে নিলো টিম ইন্ডিয়া। ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। ওয়ানডেতে নিজেদের ৯শ’তম ম্যাচটি জয় দিয়ে স্মরনীয় করে রাখলো মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। যা ছিল ওয়ানডেতে ভারতের ৪৫৫তম জয়ও।
ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট এ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় ভারত। ব্যাটিং-এ নেমে ভারতের দুই উদ্বোধণী পেসার উমেশ যাদব ও হার্র্ডিক পান্ডিয়ার বোলিং তোপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ভারতের ২১৫তম ওয়ানডে খেলোয়াড় হিসেবে এ ম্যাচে অভিষেক হয় পান্ডিয়ার।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে আক্রমনে এসেই নিউজিল্যান্ড ওপেনার মার্টিন গাপটিলকে ফিরিয়ে দেন পান্ডিয়া। ১২ রান করে ফিরেন গাপটিল। এরপর আরও ২ উইকেট নিয়ে নিজের অভিষেকটা স্মরনীয় করে রেখেছেন পান্ডিয়া। সেই সাথে আরেক উদ্বোধণী পেসার উমেশ যাদবও নেন ২ উইকেট। ফলে ৪৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে নিউজিল্যান্ড।
এরপর আক্রমনে এসে নিউজিল্যান্ডের সাত ও আট নম্বর ব্যাটসম্যানকে তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে দ্রুত গুটিয়ে দেয়ার পথ তৈরি করেন ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত বল হাতে নেয়া কেদার যাদব। নিজের অষ্টম ম্যাচে ২ উইকেট নেন তিনি। এতে ৭ উইকেটে ৬৫ রান দাড়ায় নিউজিল্যান্ডের।
তবে অন্য প্রান্তে ব্যাট হাতে অবিচল ছিলেন ওপেনার হিসেবে খেলতে নামা টম লাথাম। কোন ব্যাটসম্যানের সঙ্গ ভালোভাবে না পেলেও, দশ নম্বরে নামা টিম সাউদিই ঠিকই সাহস যুগিয়েছেন লাথামের। দু’জনের দুর্দান্ত ব্যাটিং-এ সম্মানজনক স্কোরে গিয়ে পৌছায় নিউজিল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ১৯০ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা।
লাথাম ও সাউদি দু’জনই হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি পাওয়া লাথাম অপরাজিত থাকেন ৯৮ বলে ৭৯ রান করে। তার ইনিংসে ৭টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। আর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৫৫ রানে থামেন সাউদি। তার ইনিংসে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা ছিলো। ভারতের পক্ষে পান্ডিয়া ও অমিত মিশ্র ৩টি করে উইকেট নেন।
জবাবে শুরুতে দলকে ৪৯ রানের জুটি এনে দেন রোহিত শর্মা ও আজিঙ্কা রাহানে। ব্যক্তিগত ১৪ রানে রোহিত ফিরে গেলে দলীয় ৪৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় ভারত। আরেক ওপেনার রাহানেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। করেছেন ৩৪ বলে ৩৩ রান।
তবে ভারতের রানের চাকা সচল ছিলো বিরাট কোহলির ব্যাটে চড়ে। তাকে কিছুক্ষন সঙ্গ দিয়েছেন মনিষ পান্ডিয়া। চার নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ১৭ রানের ইনিংস খেলেন পান্ডিয়া। এই তরুন ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর পাঁচ নম্বরে উইকেটে আসেন অধিনায়ক ধোনি।
বলের সাথে পাল্লা দিয়েই রান তুলছিলেন ধোনি। কিন্তু কোহলির সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে ব্যক্তিগত ২১ রানেই থেমে যায় ধোনির ইনিংস। ২৪ বলে ১টি করে চার ও ছক্কা হাকাঁন ধোনি।
দলীয় ১৬২ রানে দলের অধিনায়ক ফিরে গেলেও, ভারতের জয় নিশ্চিত করেছেন কোহলি। ছক্কা হাকিয়ে জয় নিশ্চিত করা কোহলি অপরাজিত থাকেন ৮১ বলে ৮৫ রানে। ক্যারিয়ারের ৩৭তম হাফ-সেঞ্চুরি পাওয়া ইনিংসে ৯টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন কোহলি। ১০ রানে অপরাজিত ছিলেন যাদব। ম্যাচের সেরা হয়েছেন ভারতের হার্ডিক পান্ডিয়া।
আগামী ২০ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
নিউজিল্যান্ড : ১৯০/১০, ৪৩.৫ ওভার (লাথাম ৭৯*, সাউদি ৫৫, পান্ডিয়া ৩/৩১)।
ভারত : ১৯৪/৪, ৩৩.১ ওভার (কোহলি ৮৫*, রাহানে ৩৩, সোদি ১/৩৪)।
ফল : ভারত ৬ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : হার্ডিক পান্ডিয়া (ভারত)।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল