'দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো নারীবান্ধব হোক'
'দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো নারীবান্ধব হোক'

‘দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো নারীবান্ধব হোক’

বিডি নিউজ ৬৪: “আলাদা কোনো জায়গা ছিল না। নারী-পুরুষ সবাইকে এক ঘরে থাকতে হতো। বিশেষ সময়ে নারীদের শরীর খারাপ হলে কাপড় পরিষ্কার করতে হতো লবণ পানিতে। সেগুলো শুকানোরও কোনো জায়গা ছিল না। বাধ্য হয়েই লুকিয়ে রাখতে হতো তা। না শুকানোয় অনেকে আধা ভেজা কাপড় ব্যবহার করতেন। এতে করে আমাদের নানাবিধ ঝুঁকিপূর্ণ রোগের সম্মুখীন হতে হতো।”

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে এভাবেই দুর্যোগকালীন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন ঝাপা গ্রামের অঞ্জলি রানী। সকাল ১০টায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক গ্রামের নারীদের নিয়ে ‘দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্রগুলো নারীবান্ধব হোক’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

সভায় অংশ নিয়ে একইভাবে পাখিমারা গ্রামের গৃহবধূ মিরাতুন্নেছা জানান, তাদের সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে তিনজন গর্ভবতী নারী ছিলেন। তারা সব সময় আশ্রয়কেন্দ্রের অন্য পুরুষের সামনে থাকতে লজ্জা পেতেন। হঠাৎ দুর্যোগ আসায় অনেকেই কাপড় চোপড় গুছিয়ে আনতে পারেননি। পুরুষদের সামনে দিয়ে বাথরুমে যেতেও সংকোচ লাগতো। লজ্জার কারণে অন্য পুরুষরা চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই বাথরুম চেপে রাখতেন। তিনি বলেন, “যেকোনো দুর্যোগেই নারী-শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় গ্রহণকারীদের দাবি, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো নারীবান্ধব করা হোক। স্বাস্থ্য সচেতনতাসহ ঝুঁকিমুক্ত বসবাসের জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।”

পদ্মপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন পদ্মপুকুর ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম, ইউপি সদস্য শাহানারা বেগম, সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফ হোসেন ও নারগিস পারভীন, সমাজ সেবক শওকত হোসেন গাজী, ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি মোশারফ হোসেন, পাখিমারা গ্রামের মোমেনা বেগম, কামালকাটি গ্রামের বিথিকা মণ্ডল, বারসিক কর্মকর্তা মফিজুর রহমান, বাবলু জোয়ারদার, সুন্দরবন স্টুডেন্টস সলিডারিটি টিমের সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, “কেউ আমাদের মা, কেউ আমাদের বোন। তাদের সুবিধার জন্য দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে।” তাঁরা পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ৯টি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে সাতটি কেন্দ্রকে নারীদের থাকার অযোগ্য উল্লেখ করে বলেন, “এসব আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্যোগকালে ওপরে ওঠার মতো সিঁড়িও নেই।” আশ্রয়কেন্দ্রগুলো তিনতলায় উন্নীতকরণ, আশ্রয়কেন্দ্রে বৃদ্ধ-নারী-শিশু এবং প্রতিবন্ধীদের ওঠার জন্য বিশেষ সিঁড়ির ব্যবস্থা ও নারী-পুরুষের থাকার পৃথক ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান বক্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *