শেরপুরে বন্যহাতির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে মাটিচাপা
শেরপুরে বন্যহাতির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে মাটিচাপা

শেরপুরে বন্যহাতির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে মাটিচাপা

বিডি নিউজ ৬৪: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের পানবর গ্রামের কৃষক জবান আলীর ধানক্ষেত থেকে উদ্ধারকৃত বন্যহাতির মরদেহ ২ অক্টোবর রবিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ফৌজিয়া কাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। এসময় তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হৃৎপিন্ড, পাকস্থলি সহ শরীরের কিছু অংশ সংরক্ষণ করেন। এর আগে বনবিভাগ সংরক্ষণের জন্য হাতির দাঁতটি কেটে নিয়ে যায়।

জেলা বন্যপ্রাণি এবং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে হাতির মরদেহটি ঘটনাস্থলের কাছেই মাটিচাপা দেওয়ার হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বন্যহাতি মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় ঝিনাইগাতী থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে।

বন বিভাগের ঝিনাইগাতীর তাওয়াকুচা বীট কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম জানান, মৃত হাতিটির বয়স আনুমানিক ৯/১০ বছর হবে। এটি দাতাল পুরুষ হাতি, এটির উচ্চতা ১২ ফুট এবং লেজ সহ লম্বায় ১৩ ফুট। হাতিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানাতে না পারলেও তিনি বলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে ঝিনাইগাতীর কাংশা ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে পাহাড় থেকে নেমে আসা ৩০/৩৫ টির মতো একদল বন্যহাতি তান্ডব চালাচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষদিকে তিনদিনের ব্যবধানে কাংশা ইউনিয়নের ওই এলাকায় মহিলা সহ দুইজন বন্যহাতির আক্রমণে নিহত হয়েছেন। প্রতিরাতেই বন্যহাতির দল লোকালয়ে প্রবেশ করে ধানের ক্ষেত খেয়ে সাবাড় করা সহ ঘরবাড়ীতে হানা দিয়ে নানা ক্ষয়ক্ষতি করছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই বন্যহাতির দল ফের পাহাড়ে চলে যাচ্ছে। শনিবার রাতেও বন্যহাতির দল লোকালয়ে হানা দিয়ে ক্ষেতের ধান খাওয়া সহ ৮টি বাড়ীঘরের ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

হাতি তাড়াতে লোকজন মশাল জ্বালিয়ে, টিন পিটিয়ে শব্দ করে, জেনারেটরের আলো জ্বালিয়ে হৈ হল্লা-শব্দ করেও হাতির দলকে তাড়াতে না পারায় শনিবার রাতে স্থানীয় অদিবাসীরা জেনারেটরে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হাতি তাড়াতে চেষ্টা করে। সেই জেনারেটরের বৈদ্যুতিক শকেই হাতিটি মারা যেতে পারে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। রাতভর হাতির তান্ডবে ওই এলাকার লোকজন ঘরবাড়ী ছেড়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে বাধ্য হন। স্থানীয়রা বলছেন, যেখানে হাতিটি মারা গেছে তার আশপাশেই বন্যহাতির দল অবস্থান করায় তাদের মাঝে এখন হাতি আতংক বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, গত এক বছরে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী সীমান্তে এ নিয়ে চারটি বন্যহাতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। একই সময়ে এ দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামে বন্যহাতির আক্রমণে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *