বিডি নিউজ ৬৪: অভাবের তাড়নায় ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা ২২ দিন বয়সি শিশু মোরশেদা আক্তার বন্যাকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার পর শিশুটির পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণে আরও এক লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দাতা। জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই অনুদান জমা দেওয়া হয়েছে বলে রবিবার জানানো হয়।
দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার প্রথম পাতায় “বুকের ধন বিক্রি করে পরের জমিতে ঘর” শিরোনামে প্রকাশিত শুক্রবারের খবরটি জেনে ওই দিনই শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাবুদ্দিন খান।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাথরেরচর গ্রামের গোলাম মোস্তফার স্ত্রী পাঁচ সন্তানের জননী রেবী বেগম তার কোলের শিশু বন্যাকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। শিশুটিকে ক্রয় করেন একই উপজেলার পাথরেরচর এলাকার চেংটিমারি গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের নিঃসন্তান স্ত্রী পানফুল বেগম। আর শিশুটিকে বিক্রি করেই মা রেবী বেগম তার স্বামী ও অন্য সন্তানদের নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন রৌমারী উপজেলার বারবান্দা গ্রামে। সেখানে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে শিশু বিক্রির টাকা দিয়ে একটি থাকার ঘর নির্মাণ করেন রেবী বেগম।
এ খবর প্রকাশের পর শুক্রবার দুপুরেই জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো: শাহাবুদ্দিন খান জামালপুর থেকে রওনা হয়ে বিকালে পৌঁছান দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাথরেরচর এলাকার চেংটিমারি গ্রামে শিশুটির ক্রেতা পানফুল বেগমের স্বামী দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে জানা যায় দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী পানফুল বেগম শিশুটিকে নিয়ে চলে গেছেন তার বাপের বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কাঠালবাড়ি এলাকার খাঁ পাড়া গ্রামে।
এ খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মো: শাহাবুদ্দিন খান এর নেতৃত্বে জামালপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুকন্ত হাজং, দেওয়ানগঞ্জের ইউএনও সাইফুল ইসলাম, কালের কন্ঠের জামালপুর প্রতিনিধি অজিজুর রহমান চৌধুরী, দেওয়ানগঞ্জের সাংবাদিক মদন মোহন ঘোষ ও ডাংধরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ মাসুদ সেখান থেকে আবারও যাত্রা শুরু করেন। ওইদিনই সন্ধায় তারা পৌঁছেন রৌমারি উপজেলার কাঠাল বাড়ি এলাকার খাঁ পাড়া গ্রামে। সেখানে গিয়ে দেখা মেলে শিশুটিকে কোলে নিয়ে বাবার বাড়ির উঠানে বসে আছেন শিশুটির ক্রেতা নিঃসন্তান পানফুল বেগম।
এরপর জেলা প্রশাসক মো: শাহাবুদ্দিন খান ওই বাড়িতে একাধারে চার ঘন্টা ধরে পানফুল বেগমকে নানা ভাবে বুঝিয়ে তার কাছ থেকে ২২ দিন বয়সী দুধের শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এরপর শুক্রবার রাত ১০ টায় শিশুটির কাছে আনা হয় তার প্রকৃত মা রেবী বেগম ও বাবা গোলাম মোস্তফাকে। এসময় সেখানে চলে আসেন রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার, রৌমারি থানার ওসি এবিএম সাজেদুল ইসলাম, কালের কন্ঠের রৌমারি প্রতিনিধি কুদ্দুস সরকার ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
একপর্যায়ে জেলা প্রশাসকের পরামর্শে সেখানে উপস্থিত সরকারী কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক ও শতাধিক গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সামনে নি:সন্তান পানফুল বেগম জেলা প্রশাসকের হাত দিয়ে শিশুটিকে প্রকৃত মায়ের কোলে তুলে দেন। ওই সময় তিনি শিশুটির ক্রেতা পানফুল বেগমকে ২৫ হাজার টাকা ফেরত এবং শিশুটির পরিবারের ভরণ-পোষনের জন্য মাসিক এক বস্তা চাল প্রদানের আশ্বাস দেওয়াসহ নগদ ১০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। একই সময় রৌমারী থানার ওসি এবিএম সাজেদুল ইসলাম শিশুটির মাকে নগদ ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন।
অপরদিকে দেওয়ানগঞ্জ ও রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন শিশুটির খাদ্য, দুধ, চিনি ও চিকিৎসা সেবা প্রদানের সার্বিক ব্যবস্থা প্রদানের অঙ্গীকার করেছেন। এছাড়াও পরদিন জামালপুর জেলা প্রশাসকের নিকট শিশুটির পরিবারের জন্য একটি বাড়ি নির্মান করে দেওয়ার জন্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক দাতা এক লাখ টাকা জমা দিয়েছেন। ওই এক লাখ টাকা ব্যয়ে শিশুটির পরিবারকে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাবুদ্দিন খান।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল