বিডি নিউজ ৬৪: গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ১৮ দিন পর একটি মাছ ধরা ট্রলার ও সাত জেলের লাশের সন্ধান মিলেছে ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায়। এফবি নুরুল আলম নামে ওই ট্রলারে সাতজনের লাশ পাওয়া গেছে-এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিখোঁজ ট্রলারের মালিক। ওই ট্রলারে মোট ১৭ জেলে ছিল। এ বিষয়ে হাতিয়া থানায় একটি জিডি করেছে ট্রলার মালিক আনোয়ার হোসেন।
এফবি নুরুল আলম ট্রলারের জেলেরা হলেন- নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার মৃত আসাদুল হকের ছেলে মো. জাফের মাঝি, আবুল কালামের ছেলে রাশেদ মিয়া, আ. হক সাবের ছেলে তাজুল ইসলাম, হাসু মাঝির ছেলে দিদার হোসেন, ফকিহ উদ্দিনের ছেলে মিরাজ মিয়া, নবির উদ্দিনের ছেলে স্বপন মিয়া, মো. আখতারের ছেলে ফরহাদ মিয়া, মাহমুদুল হকের ছেলে জহির উদ্দিন, মহিউদ্দিনের ছেলে মনির হোসেন, জোমাম্মেল হোসেনের ছেলে মিরাজ মিয়া, আ. হক সাহেবের ছেলে মেহেরাজ, কামাল হোসেনের ছেলে সোহেল মিয়া, আ. মতিনের ছেলে সানা উল্লাহ, আলাউদ্দিনের ছেলে রোমান,মো.কালুর ছেলে মিরাজ, আ. রহিমের ছেলে নিশান, সাইদুল হকের ছেলে এনায়েত হোসেন।
এ বিষয়ে এফবি নুর আলম ট্রলারের মালিক মো. নুর আলম ও ভারত-বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির ভারতের সভাপতি জয়কৃষ্ণ হালদারের বরাত দিয়ে আনোয়ার হোসেন জানান, ৩০ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে ভারতের চব্বিশ পরগনার জলসীমায় এফবি নুরুল আলম নামক ট্রলারটি ভাসতে দেখে ওই দেশের মৎস্যজীবীরা। এ সময় ভারতীয় মৎস্যজীবীরা ওই ট্রলারটির কাছে গিয়ে দেখতে পায় লাশের ভেতরে স্তুপ। এমন অবস্থা দেখে জেলেরা তাদের ট্রলারের সাথে রশি বেঁধে চব্বিশ পরগনা জেলার পাথরপ্রতিমা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ট্রলার থেকে সাতজনের লাশ উদ্ধার করে। বর্তমানে ট্রলারটি ভারতের পাথরপ্রতিমা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আর জেলেদের মরদেহ পাথরপ্রতিমা থানা স্বাস্থ্য বিভাগের হিমঘরে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরো জানান, লাশের সাথে জামা-কাপড়ের মধ্যে থাকা মোবাইল ফোন থেকে নম্বর সংগ্রহ করে ফোন করে জানা যায় তারা নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার আধিবাসী।
লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নুরুল আলম ট্রলারের মালিক নুরুল আলম জানান, লাশ ও ট্রলার ভারতের চব্বিশ পরগনা জেলার পাথরপ্রতিমা থানার হেফাজতে রয়েছে। ওই থানার এক কর্মকর্তা মো.মইনুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকালে দিকে স¦জনদের সাথে কথাও বলেছেন। তিনি আরও জানান, বাকি ১০ জনের এখন পর্যন্ত সন্ধান না পাওয়ায় তাদের সলিল সমাধি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ও বরগুনা জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আ. মন্নান মাঝি বলেন, ট্রলার মালিক কয়েকদিন আগে জেলেদের সন্ধানের জন্য পাথরঘাটায় এসেছিলেন। ট্রলার ও জেলেদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা। আমরা এ ব্যপারে ট্রলার মালিক সমিতি এবং ইউনিয়নের তরফ থেকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করা হবে।
এ প্রসঙ্গে নোয়াখালীর হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক বুধবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে বলেন, এফবি নুরুল আলম ট্রলার মালিকের পক্ষে মো. নবি হোসেন নামের একজন গত ২১ আগস্ট হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ (ডায়েরি নম্বর ৭৩৩) ডায়েরি করেন।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল