‘বন্ধুরা আর মজা করতে চায় না, কিন্তু আমি আগের মতোই বন্ধুদের চাই’

বিডি নিউজ ৬৪: বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর বন্ধুরা যে যার মতো নিজ পেশায় নিয়োজিত হয়েছে। এ অবস্থায় এখন আর কোথাও ঘুরতে যেতে কিংবা মজা করতে বন্ধুদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু আমার বয়স এখন ২৫ বছর। আমি এখনও দারুণ মজা করতে চাই। তাদের একসঙ্গে আসার কথা বললে কিংবা মজা করতে বললে তারা বলে একটা সঙ্গী জুটিয়ে কিংবা বিয়ে করে তারপর তার সঙ্গে ঘুরতে। কিন্তু আমি সেই বন্ধুদেরই চাই। রাত জেগে পার্টি আর পানাহার করতে চাই। এ সমস্যার সমাধান কী? সম্প্রতি মনোবিদের কাছে এমনই এক প্রশ্ন করেন এক ব্যক্তি। এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ম্যারিয়েলা ফ্রস্ট্রাপ। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে গার্ডিয়ান।
মনোবিদের উত্তর : আপনি নিজের একটা উজ্জ্বল ছবি এঁকেছেন। কিন্তু আমার কাছে কী জিজ্ঞাসা করলেন তা স্পষ্ট নয়। কারণ আমি আপনার বন্ধুদের বলতে পারি না যে, আবার আপনারা একত্রে মজা করুন।
এখন আপনার বয়স বাড়ছে। অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে। আপনার যে কোনো বিষয়ে উদ্দামতা আর মানায় না। আপনার স্বাস্থ্য, চেহারা, সম্পর্ক ও ক্যারিয়ারে বয়সের ছাপ পড়তে থাকবে। এসব বিষয় নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এখানে আপনার পুরনো বিষয়কে আঁকড়ে ধরে বসে থাকার কোনো উপায় নেই।
আপনি যদি অতীতের কোনো একটি বিষয়কে আঁকড়ে ধরে থাকতে চান তাহলে নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করবেন। এটি আপনার সামাজিক অবস্থাকেও প্রভাবিত করবে। আপনি যতদিন না নিজের অগ্রাধিকারগুলো পরিবর্তন করছেন ততদিন পিছিয়ে পড়তে থাকবেন।
আপনাকে চিন্তা করতে হবে যে, কিজন্য আপনি সংগ্রাম করছেন? আপনি কি নিজের অতীত অভিজ্ঞতাকে সঞ্চয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বদলে সেই কলেজের দিনগুলোতেই থাকতে চাইছেন? পুরনো দিনের ফাঁদে পড়তে চাইছেন?
আমার ধারণা আপনিও পরিবর্তন চান। এক্ষেত্রে আপনার পরিবর্তনের চাহিদাটি হয়ত কিছুটা আলাদা। কিন্তু আপনার বন্ধুরা যে পরিবর্তন চায় আপনি ঠিক সেভাবে চান না। আপনি নিজেকে পরিত্যক্ত বলে মনে করছেন। আর এ থেকেই আপনার মাঝে শূন্যতাবোধ তৈরি হয়েছে। আর এর পেছনে বন্ধুদের দূরে সরে যাওয়াকেই আপনি দায়ী করছেন। যদিও এ সমস্যার মূলে রয়েছেন আপনি নিজেই। আর তাই এ সমস্যা সমাধানে আপনার নিজের দিকেই তাকাতে হবে। নিজেকে সংশোধন করতে হবে। আপনার যদি মদ্যপানের অভ্যাস থাকে তাহলে তা বাদ দিন। প্রয়োজনে থেরাপি নিন।  এতে আবার বন্ধুদের আপনি কাছে পাবেন। হয়ত আগের মতো করে নয়, নতুন কোনো রূপে।
আপনার জানতে হবে, জীবনে নানা উত্থান-পতন থাকে। আর এসব উত্থান-পতনের মাঝে আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে, এটাই স্বাভাবিক। আর এ অবস্থায় পুরনো বিষয়গুলো ধরে রাখার কোনো মানে হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *