বিডি নিউজ ৬৪: নামে মহাসড়ক হলেও চেহারা দেখলে মেনে নিতে কষ্ট হয়। খোদলানো চেহারা। সড়কে যত্রতত্র খানাখন্দ। এতে বৃষ্টির পানি জমে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রাবাড়ীর মোড় থেকে কাজলা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশে যাত্রীরা যেমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তেমনি চালাকেরাও হচ্ছেন নাস্তানাবুদের একশেষ।
এমন এক চালক আকতার হোসেন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে থাকেন তিনি। ভাড়ায় সিএনজিচালিত স্কুটার চালিয়ে সংসার চালান। সপ্তাহ দুয়েক আগে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার মোড় থেকে যাত্রী নিয়ে যাত্রাবাড়ী হয়ে গুলিস্তানে যাচ্ছিলেন। মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে আসার পর গাড়ির এক্সেল ভেঙে যায়। যাত্রীসহ তিনি গুরুতর আহত হন। ভর্তি হন হাসপাতালে। এখন তাঁর সংসার চলছে না। সেই দুঃখে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাঁদছেন তিনি।
আকতার হোসেন বলেন, ‘রাস্তার কারণে আমি ভুগছি। আমার পরিবার ভুগছে। খারাপ রাস্তার কারণে আমার সিএনজির এক্সেল ভেঙে পড়ে। এখন আমাকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কাজলা থেকে যাত্রাবাড়ীর মোড় পর্যন্ত রাস্তা যে কত খারাপ, তা বোঝানো যাবে না। মনে হয়, এটা রাস্তায় না, একটা পুকুর। বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। পুরা নদীর মতো লাগে। বৃষ্টি না থাকলে রাস্তা হয়ে যায় পচা পুকুর। পানিতে কটু গন্ধ। খানাখন্দে ভরা। সাত মাস ধরে রাস্তার এমন হাল।’
সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওই এক কিলোমিটার অংশ চলাচলের একেবার অনুপযোগী। মাঝখানে যেখানে হানিফ ফ্লাইওভার, সেখানে সড়কের দুপাশে পানি জমে আছে। পানি জমে থাকায় সড়কের এই অংশ যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। দুই পাশের সড়কের ৫ থেকে ১০ ফুট রাস্তা দিয়ে চলছে গাড়ি। তাও খানাখন্দে ভরা। এ ছাড়া রাস্তার দুপাশে পানির পাশাপাশি রয়েছে হাতসমান উঁচু কাদা। দেখলে মনে হবে, এটা কোনো রাস্তা না। পরিত্যক্ত জায়গা। সেখানে রাখা হয়েছে বড় বড় ট্রাক।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাসান বলেন, এলাকার লোকজন আর এটাকে রাস্তা বলে না; বলে পুকুর। কারণ, সব সময় রাস্তায় পানি জমে থাকে। বৃষ্টি হলে রাস্তায় কয়েক হাত পানি জমে যায়। তখন মানুষের যে কী দুর্দশা হয়, তা কাউকে বোঝানো যাবে না। সাত মাস ধরে রাস্তার এই হাল। কিন্তু সিটি করপোরেশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
ছয়-সাত মাস ধরে রাস্তার এমন বেহাল অবস্থা থাকায় ক্ষুব্ধ সুজন নামের স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘রাস্তার বেহাল অবস্থা। লোকজন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। মালবোঝাই দুইটা ট্রাক খাদে পড়ে গেছে। ওই ট্রাক যদি মানুষের ওপর পড়ত, তাহলে নির্ঘাত প্রাণহানি ঘটত। আজ সকালে কাজলায় একটা রিকশা উল্টে গেছে। এগুলো যদি সিটি করপোরেশন না দেখে, তাহলে জনগণ যাবে কোথায়? মাঝেমধ্যে সিটি করপোরেশনের লোকজন এসে কিছু ইট বসায়। কিন্তু রাস্তায় পানি জমে থাকে।’
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে পানি জমে থাকার কারণে ড্রেন দিয়ে পানি সরে না। ড্রেনের লাইন বন্ধ হয়ে গেছে। এই কারণে রাস্তায় দিনের পর দিন পানি জমে থাকছে। এতে রাস্তা একেবার চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। কাদা থাকায় গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার পানি পচার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
রাস্তার এমন বেহাল অবস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্বয়ং যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কাজলা থেকে যাত্রাবাড়ীর রাস্তা এত খারাপ যে গাড়ি চলাচলের একেবারই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় আমরাও আছি চরম কষ্টে আছি। গাড়ি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম বলেন, ‘কাজলা থেকে যাত্রাবাড়ীর চৌরাস্তার মোড় পর্যন্ত রাস্তার যে বেহাল অবস্থা, এতে আমিও লজ্জিত। প্রায়ই সেখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে রাস্তার কাজের ব্যাপারে গত মাসে টেন্ডার হয়েছে। আশা করি, রাস্তার কাজ শুরু হকে শিগগিরই।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (অঞ্চল-৫) বোরহান আহমেদ বলেন, ‘এটা সত্যি যে রাস্তার বেহাল অবস্থা। রাস্তার টেন্ডার হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে আশা করি কাজ শুরু হবে।’

bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল