উসেইন বোল্ট: কাছের মানুষরা যেভাবে দেখেছেন

বিডি নিউজ ৬৪: উসেইন বোল্ট জীবনে দেরি করেছেন মাত্র একবার। যে সময়ে জন্ম নেয়ার কথা ছিল অ্যাথলেটিকস্রে এই কিংবদন্তি তার ১০ দিন পর ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন। তার মা জেনিফার বলছেন, উসেইনের বয়স যখন তিন সপ্তাহ তখন থেকেই তিনি টের পেতে শুরু করেছিলেন যে বড় কিছু একটা করার জন্যই তার ছেলের জন্ম হয়েছে। বাবা ওয়েলেস্‌লি বোল্ট জানাচ্ছেন, উসেইন হারতে চাইতেন না। ছেলেবেলায় তিনি যখন জ্যামাইকার ট্রলনিতে পাড়ার মাঠে দৌঁড়াতেন তখন অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতায় হেরে গেলে তিনি কান্নাকাটি করতেন।

জেনিফার বলেন, পাঁচ বছর বয়স থেকে উসেইন স্কুলের বন্ধুদের সাথে রেস করতেন, এবং প্রতিবারই জিততেন। ভাই সাদিকি এবং বোন শেরিন বলছেন, ছোটবেলা থেকেই উসেইন ছিলেন খুবই হাসিখুশি এক ছেলে। তবে উইলিয়াম নিব হাই স্কুলে পড়ার সময় উসেইন বোল্টের আকর্ষণ ছিল ক্রিকেটের প্রতি। সে সময় তিনি ক্রিকেট ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারতেন না। তবে স্কুলের পিটি শিক্ষক লর্না থর্পই প্রথম উসেইনকে অ্যাথলেটিক্সে আসার জন্য উপদেশ দেন।

আমি তাকে বলেছিলাম, ভাল করে ট্রেনিং শুরু করো। তোমার লম্বা পায়ের ভেতর সোনার খনি লুকনো আছে, বলছিলেন মিসেস থর্প। উসেইন বোল্টের জীবনের ওপর এই শিক্ষকের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। উসেইন সেটি অস্বীকারও করেন না। তিনি ছিলেন মায়ের মতো। স্কুলে পড়ার সময় তিনি সব সময় আমার খোঁজখবর রাখতেন। স্কুলের ভেতরে কি স্কুলের বাইরে। সব সময় চাইতেন আমি যেন আমার মনোযোগ ধরে রাখি। ফলে আমার জীবনে তার বড় ভূমিকা রয়েছে।

উসেইন বোল্টের জীবনে প্রথমবারের মতো খ্যাতি আসে যখন তার বয়স মাত্র ১৫। ২০০২ সালে জ্যামাইকাতে বিশ্ব জুনিয়ার চ্যাম্পিয়নশিপে এই কিশোর স্বর্ণপদক জয় করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সে সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা সবাই ছিল তার চেয়ে অন্তত চার বছর বড়। সেই ইভেন্টের পর থেকে উসেইন বোল্টকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *