কাজপাগল স্ত্রীকে কীভাবে ছুটির দিনেও কাজ থেকে বিরত রাখব?

বিডি নিউজ ৬৪: আমার স্ত্রী কাজপাগল। চলতি বছরের প্রথম দিকে অতিরিক্ত কাজ করে তার স্বাস্থ্যও খারাপ হয়ে পড়েছিল। সামনে আমাদের গ্রীষ্মের ছুটি আসছে। এ সময়টা আমাদের জন্য সবসময়ই ঝগড়ার একটি ইস্যু হয়। ছুটির সময় কাজ না করার কথা বললেও আমার স্ত্রী সে কথা রাখতে পারেন না। ছুটির সময়ও তিনি প্রতিদিনই কাজ করেন। এমনকি ছুটির সময়টাতেও আমার স্ত্রী আমাদের সন্তানদেরকে চাইল্ড কেয়ারে রেখে আসেন। এতে আমাদের আর পারিবারিক সময় কাটানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। দিনের বাকী সময়টুকুতে আমাকেই বাচ্চাদের যত্ন নিতে হয়। আমি তার স্বাস্থ্য এবং আমাদের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। স্ত্রীকে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ফিরিয়ে আনার জন্য আমি কী করতে পারি?
ভালো যে আপনি আগের বছরে তার অসুস্থ হয়ে পড়া থেকে জানেন কী প্রত্যাশা করতে হবে। সুতরাং ফের খারাপ কিছু হওয়ার আগেই আপনাকে এখনই দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যেন ছুটির দিনগুলো পরিবারের সবাই মিলে উপভোগ করতে পারেন।
তার সঙ্গে তার নিজের পরিকল্পনাগুলো নিয়ে কথা বলুন
আপনি বলেছেন, অতিরিক্ত কাজ করে করে আপনার স্ত্রী একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এ বিষয়টি এবং আগের ছুটির সময়ের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা থেকে হয়তো তিনি ইতিমধ্যেই আগামী ছুটিতে কাজ বন্ধ রেখে আপনার এবং সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।
আপনি তাকে জিজ্ঞেস করুন, এবারের ছুটিতে তিনি কী করতে চান। এরপর আপনি তাকে বলুন যে পরিবারের সঙ্গে এবারের ছুটিতে আপনারা একত্রে আনন্দদায়ক কিছু করতে চান।
চাপমুক্ত ছুটি কাটাতে তার পরিকল্পনা যেমন হতে পারে
তিনি হয়তো ইতিমধ্যেই ছুটি কাটানোর বিষয়ে পরিকল্পনা করছেন। এজন্য হয়তো তিনি:
তার কাজগুলো সব শেষ করে আসার চেষ্টা করছেন বা সুসংগঠিত করে রেখে আসার চেষ্টা করছেন। যাতে তিনি সহজেই কাজ ছেড়ে ছুটি উপভোগ করতে পারেন।
অন্য কাউকে তার অনুপস্থিতিতে কাজের দায়িত্ব দিয়ে আসছেন।
ফোন বা ইমেইলে ম্যাসেজ সেট করে রাখা যে তিনি এখন ছুটিতে আছেন। আর এই সময়টুকুতে তার অনুপস্থিতিতে কার সঙ্গে কথা বলতে হবে তার দিক-নির্দেশনাও দিয়ে আসতে হবে।
আর তিনি যদি অন্যের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তাহলে তাদের সঙ্গে এই সমঝোতা করে আসতে পারেন যে ছুটির সময়ে তাকে বিরক্ত করা ঠিক হবে না।
বাচ্চাদের জন্য পরিকল্পনা
এমনও হতে পারে ছুটির সময়ে আপনাদের বাচ্চারা হোটেলের হলিডে চাইল্ড কেয়ার ক্যাম্পে কাটিয়ে দিয়েই বেশি আনন্দ পায়। সুতরাং আপনারা পরস্পরকে জিজ্ঞেস করুন ছুটির সময়টুকু কে কীভাবে কাটিয়ে আনন্দ পাবেন। হতে পারে আপনারা পরস্পরের কাছ থেকে আলাদা থেকেই বেশি আনন্দ পেতে পারেন। তবে আপনার স্ত্রী যেন আবার কাজে মগ্ন হয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে হবে।
অথবা সকলে মিলে আপনারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কীভাবে ছুটির সময়টুকু কাটাবেন। তবে বাচ্চারা যেন কোনোভাবেই অসন্তুষ্ট না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আর আপনার স্ত্রীও যেন এমন না ভাবে যে আপনি বাচ্চাদের অজুহাতে আগের ছুটিতে তার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
আপনার স্ত্রীর কথা থেকে অনুমান করুন
উপরোক্ত ধারণাগুলোর ব্যাপারে আপনার স্ত্রী কীভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তা থেকেই আপনি বুঝতে পারবেন ছুটি কাটানোর ব্যাপারে তার মাথায় কী পরিকল্পনা আছে।
তিনি যদি বিশ্রাম নেওয়ার ব্যাপারে কথা বলতে আগ্রহ দেখান বা কীভাবে ছুটির সময়টুকুতে কাজ থেকে বিরত থাকবেন তা পরিষ্কার করে বলেন তাহলে আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। কিন্তু তিনি যদি অস্পষ্ট, আত্মরক্ষামূলক হন বা তার মাথায় যদি ছুটি কাটানোর বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা না থাকে তাহলে ধরে নিবেন এবারের ছুটিও নীরসভাবেই কাটবে।
ছুটির দিনগুলোকে উপভোগ্য করার বিকল্প উপায়
ছুটি কাটানোর ব্যাপারে আপনার স্ত্রীর যদি নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা না থাকে তাহলে বিকল্প কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। যেমন:
আপনার স্ত্রীকে বাদ দিয়েই তার কোনো আত্মীয় বা পরিবারের সদস্যকে নিয়েও পারিবারিক ছুটি কাটানো যেতে পারে।
ছুটির দিনগুলোতে বাইরে না গিয়ে বরং বাড়িতেই অবস্থান করুন। এবং আপনার স্ত্রীর কাজের পাশাপাশি তার সঙ্গে পারিবারিক সময় কাটানোর চেষ্টা করুন।
স্ত্রী কে নিয়ে আপনি ঘরে থাকলেন। আর বাচ্চারা কোনো হলিডে ক্লাব বা ক্যাম্পে গিয়ে থাকতে পারে।
অথবা আপনারা দুজনে পালাক্রমে বাচ্চাদের সময় দিতে পারেন।
তবে সবচেয়ে ভালো হয় আপনার স্ত্রীকে তার কাজ পাগল স্বভাবের কারণে কীকরে আপনাদের পরিবার ও দাম্পত্য সম্পর্কে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা ঠাণ্ডা মাথায় বুঝানোর চেষ্টা করা। এরপর দুজনে মিলে আলাপ-আলোচনা করে একটি আনন্দদায়ক পারিবারিক ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *