ইথিওপিয়ার সাঁতারুর ‘তিমি’ হয়ে অলিম্পিক জয়!

বিডি নিউজ ৬৪: কেউ কেউ বড় নিষ্ঠুর। তার নাম দিয়ে দিয়েছে ‘তিমি’! ইথিওপিয়ার সাঁতারু রবেল কিরোস হাবতে তারপরও সব মিলিয়ে ইন্টারনেটে হিট! ভাবছেন কিভাবে? রিও অলিম্পিকে তার যে কোনো পদক পাওয়ারই খবর পাননি! আসলে এই সাঁতারু ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে সবচেয়ে বেশি সময়ে ও সবচেয়ে ধীর গতিতে সাঁতরে বিশ্ব জুড়ে শিরোনাম!

২৪ বছরের রবেল দেখতে গোলগাল। মেদ আছে। ওজনও বেশ। সাঁতারু সুলভ নয় মোটে। বিশ্ব সাঁতারের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিনার বিশেষ আমন্ত্রণে রিওতে আসা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তিনি। শোনা যায়, ইথিওপিয়ার সাঁতার সংস্থার প্রেসিডেন্টের ছেলে। তো ওসব বাদ দিয়ে রবেলের গল্পটাই না হয় শুনুন।

অলিম্পিকের পঞ্চম দিনে হিটে অংশ নিলেন রবেল। তার সাথে আরো দুই প্রতিযোগী। ওই দুজন সাঁতার শেষ করে রবেলের ফেরা দেখতে লাগলেন। ব্রাজিলের কিছু দর্শক তখন উল্লাস করে উৎসাহ জোগান রবেলকে। সাঁতারু সাঁতরাতে থাকেন। বাকি দুই জনের চেয়ে প্রায় ১৩ সেকেন্ড পর ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করলেন। সময় লেগেছে ১ মিনিট ০৪.৫৯ সেকেন্ড। হিট জেতা অস্ট্রেলিয়ার কাইল চামার্সের (৪৭.৯০ সেকেন্ড) চেয়ে ১৭ সেকেন্ড বেশি সময় লেগেছে। এই ইভেন্টের ৫৯জন প্রতিযোগীর মধ্যে ৫৯তম হয়েছেন রবেল।

রবেল অবশ্য জানালেন এর চেয়ে দ্রুত সাঁতরাতে পারেন। কিন্তু সকালে অনুশীলনের পর প্রতিযোগিতায় নেমেছেন বলে একটু বেশি সময় নিলেন। তার ব্যক্তিগত সেরা ৫৯.০৮ সেকেন্ড। এই ইভেন্টের অলিম্পিক রেকর্ড ৪৭.০৫ সেকেন্ড। তবে অলিম্পিকে অংশ নেওয়াই বড় কথা। রবেলের তাই দারুণ আনন্দ, “আমি খুব খুশি। অলিম্পিকে প্রথমবারের মতো এসেছি। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।”

পারফরম্যান্স ও শরীরের গঠনে নজর কেড়ে আলোচনায় রবেল। তার এই সাঁতার মনে করিয়ে দিয়েছে ২০০০ সিডনি অলিম্পিকে ইকুয়াটোরিয়াল গিনির এরিক ‘দ্য এল’ মুসাম্বানির কথা। সেবার ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল ১ মিনিট ৫২.৭২ সেকেন্ডে শেষ করে বিশ্বে ঝড় তুলেছিলেন তিনি। যে কোনো প্রতিযোগীর চেয়ে ৫০ সেকেন্ডে বেশি সময় নিয়েছিলেন। সেই তুলনায় রবেল তো অনেক ভালো প্রতিদ্বন্দিতা করেছেন!

ইথিওপিয়া বলতেই বিশ্ব ক্রীড়ায় ছিপছিপে গড়নের দূরপাল্লার দৌড়বিদ বোঝায়। ওই ইভেন্টে যারা বহুকাল ধরে সেরা হয়ে আসছেন। সেই প্রসঙ্গ আসলে রবেল বলেছেন, “আমি ব্যতিক্রমী কিছু করতে চেয়েছি বলেই সাঁতার বেছে নিয়েছি। ইথিওপিয়ায় চোখ খুললেই দেখবেন সবাই দৌড়াচ্ছে। আমি দৌড়াতে চাইনি। সাঁতারু হতে চেয়েছি। ব্যাপার না শেষ করলাম কিভাবে।” আসলেই! রবেল এখন বিশ্বজোড়া খ্যাতিমান সাঁতারু তো বটেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *