বিডি নিউজ ৬৪: এক দিক থেকে দেখলে আমেরিকার বিদ্যমান বিয়ের মডেল ঐতিহ্যগত বিয়ের মডেল থেকে অনেক উৎকৃষ্ট।
আমেরিকার বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা আগের মতো আর বাবা-মায়ের এই কথায় উদ্বেলিত হয়না, ছেলেটি ধনী বা মেয়েটি উঁচু মর্যাদা সম্পন্ন পরিবারের সদস্য সূতরাং তাকেই বিয়ে কর।
তারচেয়ে বরং আমেরিকার বর্তমান প্রজন্ম কারো সঙ্গে বিয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে নিজের মধ্যে তার প্রতি ভালোবাসার অনুভুতি সৃষ্টি হচ্ছে কিনা এবং ভালোবাসার বিনিময়ে পাল্টা ভালোবাসা পাওয়া যাচ্ছে কিনা এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন বেশি।
অপরের প্রতি এই ভালোবাসার অনুভুতি এবং বিনিময়ে ভালোবাসা পাওয়া ছাড়া আজকাল বিয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি আগের চেয়েও অনেক বেশি কঠিন।
কীভাবে?
সম্প্রতি বেস্টসেলার লেখক রমিত শেঠির সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক বিষয়ক থেরাপিস্ট বা পরামর্শক ইশতার পিরেল আধুনিক কালের বিয়ের সম্পর্ক বেশি কঠিন হয়ে ওঠার কারণ সম্পর্কে কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
ইশতার পিরেল বলেন: “আজকাল বিয়ের সম্পর্ক হয় প্রধানত কেউ কারো প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হলে এবং গভীরভাবে প্রেমে পড়লে। একজন আরেকজনের প্রতি প্রবল আগ্রহ বোধ করলে। আর এই ধারণাগুলো একদমই সাম্প্রতিকতম ধারণা।”
পিরেল বলেন, বিয়ের ঐতিহ্যগত মডেলে, “আমরা সাধারণত সাহচর্য্য, পারিবারিক জীবন, সামাজিক মর্যাদা এবং সম্মান এবং অর্থনৈতিক সহায়তা প্রত্যাশা করি”।
কিন্তু আধুনিক রোমান্টিক মডেলের বিয়ের সম্পর্কের উদ্ভবের পর আগের আকাঙ্খাগুলো যে দূর হয়ে গেছে তেমনটা ভাবা ঠিক নয়। বরং আগের বিয়ের সম্পর্কের আকাঙ্খাগুলোর সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু আকাঙ্খা যুক্ত হয়েছে।
এ সম্পর্কে পিরেল বলেন:
“এখন আমরা আমাদের জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনিকে সেরা বন্ধু, আস্থাভাজন এবং আবেগী প্রেমিক বা প্রেমিকা হিসেবে পেতে চাই।”
এই অতিরিক্ত আকাঙ্খাগুলো আমাদের যৌন জীবনেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে; যা সবসময়ই ইতিবাচক নয়।
“আগে বিয়ের সম্পর্কে যৌনতা ছিল অনেকটা একটি কর্তব্যের মতো। কিন্তু বর্তমান রোমান্টিক মডেলের বিয়েতে যৌনতার বিষয়টি যৌন আনন্দ এবং যৌন সংযোগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এখন যৌন মিলন আর আগের মতো বিয়ের সম্পর্কের কর্তব্য হিসেবে করা হয় না।”
“এখন দম্পতিরা যৌন মিলন করেন মূলত পরস্পরের প্রতি ভালো লাগা থেকে। এখন এক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি শর্ত পূরণ করতে হয়।”
অন্য কথায়, কেউ যখন তার সঙ্গী বা সঙ্গীনির কাছ থেকে তার সকল মানবিক চাহিদা পূরণের প্রত্যাশা করেন তখন অনেক বিষয়েই অসন্তোষ সৃষ্টির সুযোগ থাকে। আর বিশেষ করে বেডরুমে তা আরো বেশি সত্য।
মনোবিজ্ঞানী এলি ফিঙ্কেল এর গবেষণায়ও দেখা গেছে, গত দুই শতকে আমেরিকায় বিয়ের সম্পর্কের ধারণায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ১৮৫০ সালের আগে লোকে বিয়ে করতো মূলত খাদ্য উৎপাদন, আশ্রয় এবং সহিংসতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য।
কিন্তু ১৯ শতকের মাঝামাঝি থেকে লোকে মূলত সাহচর্য্য এবং ভালোবাসার জন্য বিয়ে করতে শুরু করে।
আর ১৯৬৫ সালের পর থেকে আমেরিকানরা বিয়েকে একটি ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে দেখতে এবং স্বামী বা স্ত্রীকে তাদের ব্যক্তিগত পরিপূর্ণতার সহায়ক হিসেবে গণ্য করতে শুরু করে।
তার মানে দাঁড়ায়, যে দাম্পত্য সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের ব্যক্তিগত পরিপূর্ণতার সহায়ক হিসেবে কাজ করেন সে দাম্পত্য সম্পর্কই উৎকৃষ্ট। এর বিপরীত হলেই তা চরম অসন্তোষজনক বিয়ের ক্যাটাগরিতে পড়ে।
অসন্তোষ থেকে বাঁচার উপায়, পুরোনো ধাঁচের বিয়ের সম্পর্কে ফিরে যাওয়া নয়। বরং আপনাকে এ ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে আপনি আপনার সঙ্গী বা সঙ্গীনির ওপর অতিরিক্ত চাওয়া-পাওয়া আরোপ করছেন কিনা। বিপরীতে আপনার সঙ্গী বা সঙ্গীনিও আপনার ওপর অতিরিক্ত চাওয়া-পাওয়া চাপিয়ে দিতে পারেন।
সূতরাং ব্যক্তিগত ঘাটতিগুলো পুরনে বিয়ের সম্পর্কের বাইরেও আপনাকে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে বা সামাজিক পরিচিতির গণ্ডি বাড়াতে হবে।
আর বিয়ের সম্পর্ক কখনোই পুরোপুরি নিখুঁত হবে না। তারচেয়ে বরং বিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষ কোনো ইস্যুর পেছনের সাংস্কৃতিক শক্তিগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকলেই বিয়ের সম্পর্কের সমস্যাগুলো সহজে সমাধান করা যাবে।
আমেরিকার বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা আগের মতো আর বাবা-মায়ের এই কথায় উদ্বেলিত হয়না, ছেলেটি ধনী বা মেয়েটি উঁচু মর্যাদা সম্পন্ন পরিবারের সদস্য সূতরাং তাকেই বিয়ে কর।
তারচেয়ে বরং আমেরিকার বর্তমান প্রজন্ম কারো সঙ্গে বিয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে নিজের মধ্যে তার প্রতি ভালোবাসার অনুভুতি সৃষ্টি হচ্ছে কিনা এবং ভালোবাসার বিনিময়ে পাল্টা ভালোবাসা পাওয়া যাচ্ছে কিনা এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন বেশি।
অপরের প্রতি এই ভালোবাসার অনুভুতি এবং বিনিময়ে ভালোবাসা পাওয়া ছাড়া আজকাল বিয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি আগের চেয়েও অনেক বেশি কঠিন।
কীভাবে?
সম্প্রতি বেস্টসেলার লেখক রমিত শেঠির সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক বিষয়ক থেরাপিস্ট বা পরামর্শক ইশতার পিরেল আধুনিক কালের বিয়ের সম্পর্ক বেশি কঠিন হয়ে ওঠার কারণ সম্পর্কে কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
ইশতার পিরেল বলেন: “আজকাল বিয়ের সম্পর্ক হয় প্রধানত কেউ কারো প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হলে এবং গভীরভাবে প্রেমে পড়লে। একজন আরেকজনের প্রতি প্রবল আগ্রহ বোধ করলে। আর এই ধারণাগুলো একদমই সাম্প্রতিকতম ধারণা।”
পিরেল বলেন, বিয়ের ঐতিহ্যগত মডেলে, “আমরা সাধারণত সাহচর্য্য, পারিবারিক জীবন, সামাজিক মর্যাদা এবং সম্মান এবং অর্থনৈতিক সহায়তা প্রত্যাশা করি”।
কিন্তু আধুনিক রোমান্টিক মডেলের বিয়ের সম্পর্কের উদ্ভবের পর আগের আকাঙ্খাগুলো যে দূর হয়ে গেছে তেমনটা ভাবা ঠিক নয়। বরং আগের বিয়ের সম্পর্কের আকাঙ্খাগুলোর সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু আকাঙ্খা যুক্ত হয়েছে।
এ সম্পর্কে পিরেল বলেন:
“এখন আমরা আমাদের জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনিকে সেরা বন্ধু, আস্থাভাজন এবং আবেগী প্রেমিক বা প্রেমিকা হিসেবে পেতে চাই।”
এই অতিরিক্ত আকাঙ্খাগুলো আমাদের যৌন জীবনেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে; যা সবসময়ই ইতিবাচক নয়।
“আগে বিয়ের সম্পর্কে যৌনতা ছিল অনেকটা একটি কর্তব্যের মতো। কিন্তু বর্তমান রোমান্টিক মডেলের বিয়েতে যৌনতার বিষয়টি যৌন আনন্দ এবং যৌন সংযোগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এখন যৌন মিলন আর আগের মতো বিয়ের সম্পর্কের কর্তব্য হিসেবে করা হয় না।”
“এখন দম্পতিরা যৌন মিলন করেন মূলত পরস্পরের প্রতি ভালো লাগা থেকে। এখন এক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি শর্ত পূরণ করতে হয়।”
অন্য কথায়, কেউ যখন তার সঙ্গী বা সঙ্গীনির কাছ থেকে তার সকল মানবিক চাহিদা পূরণের প্রত্যাশা করেন তখন অনেক বিষয়েই অসন্তোষ সৃষ্টির সুযোগ থাকে। আর বিশেষ করে বেডরুমে তা আরো বেশি সত্য।
মনোবিজ্ঞানী এলি ফিঙ্কেল এর গবেষণায়ও দেখা গেছে, গত দুই শতকে আমেরিকায় বিয়ের সম্পর্কের ধারণায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ১৮৫০ সালের আগে লোকে বিয়ে করতো মূলত খাদ্য উৎপাদন, আশ্রয় এবং সহিংসতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য।
কিন্তু ১৯ শতকের মাঝামাঝি থেকে লোকে মূলত সাহচর্য্য এবং ভালোবাসার জন্য বিয়ে করতে শুরু করে।
আর ১৯৬৫ সালের পর থেকে আমেরিকানরা বিয়েকে একটি ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে দেখতে এবং স্বামী বা স্ত্রীকে তাদের ব্যক্তিগত পরিপূর্ণতার সহায়ক হিসেবে গণ্য করতে শুরু করে।
তার মানে দাঁড়ায়, যে দাম্পত্য সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের ব্যক্তিগত পরিপূর্ণতার সহায়ক হিসেবে কাজ করেন সে দাম্পত্য সম্পর্কই উৎকৃষ্ট। এর বিপরীত হলেই তা চরম অসন্তোষজনক বিয়ের ক্যাটাগরিতে পড়ে।
অসন্তোষ থেকে বাঁচার উপায়, পুরোনো ধাঁচের বিয়ের সম্পর্কে ফিরে যাওয়া নয়। বরং আপনাকে এ ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে আপনি আপনার সঙ্গী বা সঙ্গীনির ওপর অতিরিক্ত চাওয়া-পাওয়া আরোপ করছেন কিনা। বিপরীতে আপনার সঙ্গী বা সঙ্গীনিও আপনার ওপর অতিরিক্ত চাওয়া-পাওয়া চাপিয়ে দিতে পারেন।
সূতরাং ব্যক্তিগত ঘাটতিগুলো পুরনে বিয়ের সম্পর্কের বাইরেও আপনাকে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে বা সামাজিক পরিচিতির গণ্ডি বাড়াতে হবে।
আর বিয়ের সম্পর্ক কখনোই পুরোপুরি নিখুঁত হবে না। তারচেয়ে বরং বিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষ কোনো ইস্যুর পেছনের সাংস্কৃতিক শক্তিগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকলেই বিয়ের সম্পর্কের সমস্যাগুলো সহজে সমাধান করা যাবে।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল