রান্নাঘরে রয়েছে রূপচর্চার নানা উপকরণ

১. লবঙ্গ
বহুল ব্যবহৃত এক মসলা। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিস্ময়কর গুণের সঙ্গে রূপচর্চায়ও জাদু দেখায় লবঙ্গ। এক টেবিল চামচ পুদিনা পাতার পেস্ট, এক টেবিল চামচ ময়দা আর লাগবে ১০টি লবঙ্গ। তিনটি উপকরণ স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করে পেস্ট তৈরি করুন। এবার তা মুখে মাস্কের মতো লাগিয়ে নিন। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকে ভারসাম্য আনতে পারদর্শী লবঙ্গের এই পেস্ট। এ ছাড়া দুই লিটার পানিতে সাতটি লবঙ্গ, এক চিমটি কর্পূর এবং কিছু পুদিনা পাতা দিয়ে তা রেফ্রিজারেটরে রেখে দিন। এটি ত্বকের কার্যকর টনিক।
২. শসা
সৌন্দর্যচর্চায় শসার ব্যবহার বহুল প্রচলিত। ত্বক পরিষ্কার করতে শসা শক্তিশালী উপাদান। শসা একটু ছেঁচে নিয়ে তা ত্বকে মাখলে একনি দূর হয়। ত্বক হয় মসৃণ। শসা মুখ ও হাতের ত্বকের ব্লিচ হয়ে কাজ করে। শসার ফালি চোখে দিয়ে রাখলে বলিরেখা ও কালো দাগ দূর হয়।
৩. লেবু
এই সিট্রাস ফলটি সব কাজেই রয়েছে। একটি লেবুর রসে এক টেবিল চামচ চিনি মিশিয়ে তা হাঁটুতে ঘষে নিন। এটি দেহের গাঢ় রঙের অংশকে হালকা করে। লেবুর রস প্রাকৃতিক হেয়ার কন্ডিশনারের কাজ করে। এক কাপ চায়ের লিকারে একটি লেবুর রস মেশালেই তা হবে কন্ডিশনার। অনেকের নখে হলুদাভ ভাব চলে আসে। এক টুকরো লেবু নখে ঘষতে থাকুন। শুকনো লেবুর খোসা বেটে গমের ময়দা ও আলমন্ডের পাউডারের সঙ্গে মেশালে তা দেহের স্কার্বের কাজ করে।
৪. আলমন্ড
ভিটামিন ই-তে পূর্ণ এই বাদামটি। এর পাউডার ওটমিল এবং দুধের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কাঁচা আলুর সঙ্গে আলমন্ড পাউডার মিশিয়ে যে পেস্ট তৈরি হয়, তা চোখের কালো দাগ দূর করে।
৫. ডিম
রূপচর্চায় ডিমের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। চুলে কাঁচা ডিম মাখলে মসৃণতা আসে। চোখের চারদিকে পুষ্টি জোগাতে কাঁচা ডিমের সাদা অংশ লাগিয়ে নিন। এটি শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলেন। এ কাজ নিয়মিত করলে এক মাসের মধ্যে উপকার পাবেন। ডিম মূলত ত্বকে টানটান ভাব আনে। মসুর ডালের পাউডার এবং দুধের সঙ্গে ডিম মিশিয়ে স্কার্ব তৈরি করুন। একবার ব্যবহারেই দেখবেন ত্বক ঝকঝকে হয়ে উঠেছে।
৬. পেঁপে
ত্বকে কোমল ভাব আনতে পেঁপে বেশ কাজের। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষায় ফ্রিজে রাখা পাকা পেঁপের টুকরা দারুণ ফল দেয়। পাকা পেঁপে ত্বকে ঘষলে তা পরিষ্কার হয়ে যায় নিমিষেই।
৭. টমেটো
এতে সামান্য এসিড থাকে। তাই তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। একটি টমেটো দুই ভাগ করে মুখে ঘষুন। লোমকূপে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাবে। এতে আছে ভিটামিন ‘সি’ ও পটাসিয়াম। এগুলো ব্ল্যাকহেড দূর করে।
৮. আলু
কাঁচা আলুর ফালি চোখে দিলে ডার্ক সার্কেল দূর হয়। ত্বকের ফেকাসে বা লালচে ভাব থেকে মুক্তি দেবে আলুর পেস্ট। আলুতে আছে প্রচুর পরিমাণ স্টার্চ। আলুর রস মাখলে পরিপুষ্ট হয় ত্বক। লেবুর রস, ওটমিল ও দুধের সঙ্গে আলু মিশিয়ে নিলে ক্লিনজার তৈরি হয়।
৯. মেয়োনেজ
সালাদের এই জনপ্রিয় ড্রেসিং কিন্তু সৌন্দর্যচর্চার কাজের উপাদান। যাঁদের ত্বকে প্রাণ নেই, তাঁরা মেয়োনেজের ব্যবহারে সজীবতা ফিরে পেতে পারেন। পুরো মুখে মেয়োনেজ মেখে নিন এবং ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
১০. চন্দন কাঠ
পুরনো আমল থেকেই রূপের যত্নে চন্দনের ব্যবহার চলে আসছে। চন্দন কাঠের তেল ত্বকে কোমল ভাব আনে। সূর্যের বেগুনি রশ্মির প্রভাব থেকে মুক্তি দেয় চন্দনের তেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *