বিতর্ক ছড়িয়ে রুশ ইউলিয়াকে হারিয়ে মার্কিন লিলির সোনা জয়

বিডি নিউজ ৬৪: সেমিফাইনালের প্রতিযোগিতার সময় এর শুরু। মার্কিন টিনএজার সাঁতারু লিলি কিং বাজে ভঙ্গি করলেন রুশ সাঁতারু ইউলিয়া এফিমোভার দিকে। বললেন, ‘ড্রাগ প্রতারক’। ঝড় উঠল তাতে। এরপর ফাইনালের লড়াই। সেখানে ইউলিয়াকে পেছনে ফেলে অলিম্পিক রেকর্ড গড়লেন লিলি। জিতলেন মেয়েদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের সোনা। এবং অলিম্পিক জিতে লিলি জানিয়ে দিলেন, ডোপ পাপীদের জায়গা অলিম্পিক না।

রিওর অলিম্পিকে এই ইভেন্টে ফেভারিট ছিলেন ইউলিয়া। ২৪ বছরের সাঁতারুর নামের পাশে আছে ৫০ মিটার ও ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের বিশ্ব রেকর্ড। কিন্তু ডোপ পাপে এবারের অলিম্পিকে অর্ধেকের বেশি ক্রীড়াবিদ হারানো রুশদের মধ্যে ইউলিয়াও ব্যতিক্রম নন। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ করেছেন। ২০১৬ এর মার্চে আবার ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ হন। রিও অলিম্পিকেও নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। আপিল করে জিতে প্রতিযোগিতায় গেছেন। এবং রিওতে প্রথমবারে ফাইনালে লড়ে রুপা জিতলেও জীবনের সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতাই হলো তার।

১৯ বছরের কিং সোনা জিতেছেন ১ মিনিট ০৪.৯৩ সেকেন্ডে। ইউলিয়া দ্বিতীয় ১ মিনিট ০৫.৫০ সেকেন্ডে। আরেক মার্কিন কেটি মিলে ১ মিনিট ০৫.৬৯ সেকেন্ডে জিতেছেন ব্রোঞ্জ। আর সোনা জয়ের পর কিং বিষ ঝরিয়েছেন আবার, “প্রমাণ করলাম পরিচ্ছন্ন থেকে প্রতিযোগিতা করেও সেরা হওয়া সম্ভব।” ইউলিয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। সে জন্য আক্ষেপ নেই তার। কিংয়ের পক্ষ নিয়েছেন তাদের দেশের কিংবদন্তি সাঁতারু মাইকেল ফেলপসও।

যাকে নিয়ে এতো কথা সেই ইউলিয়ার নাম ঘোষণার সময় দুয়ো শোনা গেছে। যদিও রুশ সমর্থকরা উৎসাহ জুগিয়েছেন তাকে। কিন্তু সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে লড়তে হয়েছে রুশ অ্যাথলেট হিসেবে। কাঁদতে কাঁদতে চোখমুখ লাল করে ফেলা ইউলিয়া বলেছেন, “জানি না কিভাবে ফাইনাল পর্যন্ত এসেছি। সোনা জিতে রূপকথার মতো এই জঘন্য স্বপ্নটা শেষ করতে পারলে খুশি হতাম। কিন্তু এর বেশি হলো না। আমার জায়গায় থাকলে লোকে বুঝতো কেমন লাগে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *