বিডি নিউজ ৬৪: গোপালগঞ্জে খাবারের বিষক্রিয়ায় মাদ্রাসা ৩২ ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদেরকে গোপালগঞ্জ আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে ৯টার দিকে জেলা শহরের আল জামিয়াতুল মোহম্মাদিয়া কোর্ট মসজিদ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থরা সবাই ওই মাদ্রাসার কেরাত বিভাগের মক্তব শ্রেণির ছাত্র।
এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত খাদ্য সরবরাহকারী রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে মালিকসহ পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন। দুপুর ২টায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এ সাজা দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন মালিক আরিফুল ইসলাম মোল্লা (২৪), তার বড় ভাই সাইফুল ইসলাম মোল্লা (২৮), ছোটভাই শরিফুল ইসলাম মোল্লা (১৪), ব্যবস্থাপক কাইয়ুম মোল্লা (১৮) এবং কর্মচারী লিটন শেখ (২৪)।
মাদ্রাসার জামায়াতখানার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো. হাফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, শহরের ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য আলহাজ কোমর উদ্দিন খান কেরাত বিভাগের ১২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য সকালের নাস্তার জন্য ভুনা খিচুরি ও ডিম সরবরাহ করেন। ওই খাবার প্রথমে ৬০ জন শিশুর মধ্যে পরিবেশন করা হয়। খাবার খাওয়ার পর বাচ্চাদের পেটে ব্যাথা ও বমিভাব অনুভূত হয়। অনেকে বমিও করেছে। পরে তাদেরকে গোপালগঞ্জ আড়াই শ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকি খাবার পরিবেশন বন্ধ করে দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালে ভর্তি মাহফুজুর রহমানসহ (৯), জোনায়েত (৮) এবং জিহাদসহ (৯) বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, ভুনা খিচুরির মধ্যে দেওয়া ডিমের কুসুম তেতো ছিল। ওই কুসুম খাওয়ার পর তাদের পেটে ব্যাথা ও বমি বমি ভাব অনুভূত হয়।
কোর্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটির সদস্য আলহাজ কোমর উদ্দিন খান বলেন, “মাঝেমধ্যে আমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের খাবার দিয়ে থাকি। আজ সোমবার সকালে মক্তবখানার ছাত্রদের সকালের নাস্তা দেব এটা বলে এসেছিলাম। সে মোতাবেক শহরের মালঞ্চ রেস্টুরেন্টে খাবার অর্ডার দেওয়া হয়। ওই দোকানের মালিক মো. আরিফুল ইসলাম চৌধুরী (মন্টু) শিশুদের সকালের নাস্তার জন্য ১২৫ প্যাকেট ভুনা খেচুরি এবং ডিম সরবরাহ করে। কি হয়েছে সেটা খাবার সরবরাহকারী বলতে পারবে।
কোর্ট মসজিদ মাদ্রাসার মাহতামিম আলহাজ হাফেজ মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, অসুস্থ শিশুদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ধারণা করছি, খাদ্যে সমস্যার কারণে এ ঘটনার সৃষ্টি। বিষয়টির সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মো. নাজমুল হক বলেন, “শহরের কোর্ট মসজিদ মাদ্রাসার বেশ কয়েকজন শিশু পেটে ব্যাথা ও বমি উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাদেরকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গোপালগঞ্জের শেখ সাহেরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খাবারের বিষক্রিয়ায় শিশুরা অসুস্থ হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। বাচ্চাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আশা করছি, বাচ্চাগুলো দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।” গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী শফিকুল আলাম বলেন, “খবর শোনার পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে খাবারের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকার মহাখালী ল্যাবে পাঠানো হবে।”
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল