বিডি নিউজ ৬৪: বন্যার পানি কমতে শুরু করায় বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন সিরাজগঞ্জের বন্যা দূর্গত মানুষ।কিন্তু বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির পাশাপাশি পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়ায় দূর্গতরা এখন চরম বিপাকে রয়েছেন। এছাড়া আগামী অমাবশ্যায় যমুনার পানি বেড়ে নতুন করে প্লাবিত হবার আশঙ্কায় আছেন তারা।
সিরাজগঞ্জ শহরের উত্তর জনপদ রানীগ্রাম পশ্চিম পাড়া মহল্লার আনসার আলী জানালেন, গত ১৫ দিন বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরেছেন। ঘর থেকে পানি নামলেও উঠানে এখনো পানি রয়েছে। তবুও চোর ডাকাতের উপদ্রব থেকে বাঁচতে তড়িঘড়ি করে বাড়ি ফেরা।
একই গ্রামের দিনমজুর সুলতান বলেন, তিনি গত বুধবার বাড়ি ফিরেছেন। বাড়ি ফিরে বন্যার পানিতে বিধস্ত ঘরের বেড়া মেরামত করে কোন রকমে বসবাস উপযোগী করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু টিউবয়েলের নষ্ট হয়ে পড়ায় সাময়িক ভাবে পাশের বাড়ি থেকে পানি আনতে হচ্ছে।
গৃহবধু ডলি খাতুন জানালেন আকস্মিক ভাবে পানি ঢুকে পড়ায় ঘরের আসবাবপত্রের পাশাপাশি ঘরে সংরক্ষিত ধানও সরাতে পারিনি।পানিতে ভিজে বেশ কিছু ধান নষ্ট হয়ে গেছে।
বৃদ্ধ কৃষক রমজান আলী শত কষ্টের মধ্যেও বাড়িতেই ছিলেন। এসময় তিনি সামনের আমাবশ্যায় যমুনার পানি বেড়ে আরো একটি বড় বন্যার হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বিপদ সিমার ১৯ সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমতে থাকায় ইতিমধ্যে জেলার প্লাবিত ৫টি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ও নিম্নঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে জেলায় এখনো পানিবন্দী রয়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। বন্ধ রয়েছে ২৭৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পানি কমতে শুরু করার সাথে সাথে সদর উপজেলার পাঁচঠাকুরি, শাহজাদপুর উপজেলার কৌজুরী ও চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুরে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এদিকে যমুনা নদীর পানি কমতে থাকলেও জেলার অভ্যান্তরে করতোয়া, ফুলজোর, হুরা সাগর ও চলন বিলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এসব এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন ৩টি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মানুষ। এসব এলাকার শত শত পুকুরের চাষ করা মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে।
জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা মোঃ ওয়ালিদ আহম্মেদ বন্যা কবলিত উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের বরাত দিয়ে জানান, সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় ৭০০ মেট্রিক টন ক্ষয়রাতি চাল এবং ২৭ লাখ নগদ টাকা সাহায্য দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন জানান বন্যার্ত মানুষের নিরাপত্তায় বন্যাকবলিত এলাকায় দিবা ও রাত্রিকালীন পুলিশ টহলের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে রাত্রিকালীন পাহারার ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল