বিডি নিউজ ৬৪: শহরের খন্দকার পাড়ার স্কুলশিক্ষক মিনারুল ইসলাকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চারদিনেও কোনো খোঁজ মেলেনি। এ ঘটনায় স্বামীকে ফেরৎ পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার স্ত্রী মেহেরুন নেছা মেরি।
বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
মিনারুলের স্ত্রী মেহেরুন নেছা মেরী তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার স্বামী মিনারুল ইসলাম হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। ছোটবেলায় এতিমখানায় থেকে পড়ালেখা করেছে। পরবর্তীতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখানে পড়ালেখা শেষ করে। এরপর তিনি ঝিনাইদহ শহরে একটি কেজি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়ায় জীবনে কঠিন যুদ্ধ করেছেন।
গত ৩০ জুলাই রাত ৩টার দিকে আমাদের ওই ভাড়া বাসায় পুলিশ পরিচয়ে ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি প্রবেশ করে। তারা আমার স্বামীর হাত ধরে বাইরে নিয়ে যায়। যারা এই অভিযানে অংশ নেন তাদের কোমরে পিস্তল ও হাতে ওয়্যারলেস ছিল। বেশিরভাগ সাদা পোশাকে থাকলেও ৩/৪ জনকে পুলিশের পোশাকে দেখা গেছে। চারটি গাড়িতে আসা ওই লোকগুলো আমার স্বামীকে একটি গাড়িতে তুলে শহরের দিকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
ওই ঘটনার পর থেকে আমরা বিভিন্নভাবে তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। থানায় গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে তারা মিনারুল ইসলাম নামে কাউকে আটক করেনি। পুলিশের বড় কর্মকর্তারাও একই কথা বলছেন। এসপি অফিসে গিয়ে এসপি সাহেবের সঙ্গে কথা বলতে পারেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে আমার স্বামীর কোনো খোঁজ দেয়া হচ্ছে না। ফলে আমাদের আশঙ্কা তাকে কথিত ক্রসফায়ার সাজিয়ে হত্যা করা হতে পারে। অথবা তার লাশ গুম করে ফেলা হতে পারে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী নিরাপরাধ একটি মানুষ। তার নামে কোনো মামলা নেই। কোনো থানায় কোনো অভিযোগও নেই। যে পাড়াতে আমরা বসবাস করি সেখানকার লোকজন কেউ তাকে খারাপ বলতে পারবে না। তারপরও আমার স্বামী ধর্ম পালন করায় তাকে জামায়াত-শিবিরের আওতায় ফেলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি আমার স্বামীকে জীবিত অবস্থায় ফেরত চাই। প্রশাসনের কাছেও দাবি রাখছি নিরাপরাধ ব্যক্তিকে যেন তার পরিবারের কাছে ফেরৎ দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ মিনারুল ইসলামের মা সুফিয়া খাতুন, ভাই রোকনুজ্জামান ও ৪ বছর বয়সী কন্যা বেলি উপস্থিত ছিলেন।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল