বিডি নিউজ ৬৪: জামায়াতে ইসলামীকে ২০ দলীয় জোটে না রাখার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের দেয়া বক্তব্যকে ‘সমর্থন’ করেনি বিএনপি। এটা তার ব্যক্তিগত মতামত বলেও দাবি করেছে দলটি।
বুধবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এমন মনোভাবের কথা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বিএনপির ‘থিঙ্কট্যাঙ্ক’ হিসেবে দল ও দলটির নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত। এ ছাড়া তিনি বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবেও পরিচিত। বিভিন্ন বিষয়ে তিনি খালেদা জিয়াকে নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের এক মতবিনিময় সভায় জামায়াতকে ইঙ্গিত করে ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি রাজনৈতিক দল বড় প্রতিবন্ধকতা বলে মনে হয়। কিন্তু যেকোনো মুহূর্তে ক্ষমতাসীন দল ওই দলটিকে নিষিদ্ধ করতে পারে।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে দেশের বিরোধী দল, রাজনৈতিকভাবে না হলেও দেশের বিরোধী দল বেগম খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, ২০ দলের মধ্যে অন্ততপক্ষে এই দলটিকে আর ওইভাবে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বুঝতে পেরেছেন, ওই দলটিকে রাখলে যে লায়াবিলিটি আসে সেটা তিনি বহন করতে চান না। সুতরাং এই দিক থেকে দেখলে প্রতিবন্ধকতা (জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে) নেই।’
জামায়াতকে নিয়ে ড. এমাজউদ্দীন আহমদের ওই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এটা তার ব্যক্তিগত মতামত।’
জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে জামায়াত কোনো বাধা কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি প্রেডিকশন, চিন্তা-ভাবনা করার। বাস্তবতা হলো, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন। দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের নেত্রী। তার অবস্থান থেকে বাস্তবতার প্রেক্ষিতে জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। এই ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথাবার্তা বলছি, প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছি। ফলপ্রসূ হলে আমরা আপনাদেরকে (গণমাধ্যম) জানাব।’
গতকাল রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলামেইলকে বলেন, ‘ড. এমাজউদ্দীন সাহেব বিএনপির একজন শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি দলের কেউ নন। ওই কথাটা তিনি বলেছেন। সুতরাং তাকেই জিজ্ঞাসা করুন। এ ব্যাপারে তিনিই বলতে পারবেন।’
এ ছাড়া দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এই রকম কোনো সিদ্ধান্ত বেগম খালেদা জিয়া নিয়েছেন বলে আমি অন্তত জানি না। এমাজউদ্দীন সাহেব বলে থাকলে উনি হয়তো জানেন, তার সঙ্গে কথা বলুন।’
গেল মাসে গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর খালেদা জিয়ার ‘সন্ত্রাসবিরোধী জাতীয় ঐক্য’র আহ্বানে সরকারের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ায় বিএনপি এখন সন্ত্রাসবিরোধী ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গঠনের পথে এগোচ্ছে। ২০ দলীয় জোট এবং ১৪ দলীয় জোটের বাইরে অবস্থানরত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও প্রগতিশীল দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে একটা প্লাটফর্ম দাঁড় করাতে চায় বিএনপি। তবে এ ক্ষেত্রে জাতীয় কনভেনশনে ২০ দলকে রেখে শুধু জামায়াতকেও বাদ দেয়া হতে পারে।
জানা যায়, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গঠনে ওই দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ এবং বিএনপির রাজনীতির পরামর্শক ও সমালোচক গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ করছেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানকে এই দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান প্রমুখ।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল