দেনার দায় মেটাতে না পেরে দিনমজুরের আত্মহত্যা

বিডি নিউজ ৬৪: দেনার দায় মেটাতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন মেহেরপুরের গাংনীর থানার মহাম্মদপুর গ্রামের দিনমজুর জমির উদ্দীন।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সকালে এ নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে রাগে-অভিমানে বিষপান করেন তিনি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাঠ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত জমির উদ্দীন এ উপজেলার মহাম্মদপুর গ্রামের মৃত তুফান শেখের ছেলে। স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে আকুবপুর গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করতে তিনি।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হোগলবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুস সালামের কাছ থেকে সুদে কিছু টাকা নিয়েছিলেন জমির উদ্দীন। বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যরা জানত না। ওই টাকা সুদে-আসলে নয় হাজারে দাঁড়ায়। তার বাড়িতে সালাম টাকা আদায় করতে গেলে পরিবারের লোকজন বিষয়টি জানতে পারে। কিন্তু দিনমজুর জমিরের টাকা পরিশোধের সাধ্য ছিল না। এ নিয়ে স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে ঝগড়া বাঁধে জমিরের।

মঙ্গলবার সকালে পারিবারিক কলহ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। এতে রাগে-ক্ষোভে অভিমানে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় জমির উদ্দীন। কয়েক ঘণ্টা ধরে তিনি বাড়ি না ফেরায় স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু তার কোনো খোঁজ পায়না। পরে রাত ১০টার দিকে খলিশাকুণ্ড ব্রিজের অদুরে হোগলবাড়ীয়া মাঠের একটি মেহগনি বাগানের মধ্যে তার লাশের সন্ধান পায় পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে। বিষপানে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ ও পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, লাশ উদ্ধারের জায়গাটি বেশ নির্জন। সেখানে দুপুরের পরে স্বাভাবিকভাবেই কোনো মানুষজন থাকে না। জনমানবশূন্য স্থান নিশ্চিত হয়েই তিনি বিষপান করেছেন তাই দিনের বেলায়ও কারো চোখে পড়েনি।

গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, জমির উদ্দীনের মুখ ও শরীরে বিষের তীব্র গন্ধ পাওয়া গেছে। বিকেলের দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

জমির উদ্দীন তিন ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীসহ গত দশ বছর ধরে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করেন। বড় ছেলে ছমির উদ্দীন বাবার সঙ্গেই দিনমজুর কৃষকের কাজ করতেন। একমাত্র মেয়ে মিলি খাতুন ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। ছোট ছেলে শিহাবের বয়স পাঁচ বছর। পারিবারিক কলহে অভিমানী স্বামীর এভাবে চলে যাওয়ায় সন্তানদের নিয়ে দুঃখের অথৈ সাগরে পড়েছেন স্ত্রী আনজিরা খাতুন। লাশ উদ্ধারের পর স্ত্রী ও সন্তানসহ আত্মীয় স্বজনদের কান্নায় এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *