পুলিশ-এলাকাবাসী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ১০

বিডি নিউজ ৬৪: জেলার মুরাদনগরে জ্বাল টাকাসহ চার পুলিশ সদস্যকে হাতে নাতে আটক করেছে এলাকাবাসী। আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এসময় পুলিশের ছোড়া গুলিতে এক বৃদ্ধাসহ আহত হয়েছে অন্তত আরো ১০জন। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাসুদা আক্তার নামে একজন নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্যে তাৎক্ষণিক ভাবে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (১ আগস্ট) সকালে মুরাদনগর উপজেলার হায়দরাবাদে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার একদল পুলিশ হায়দরাবাদ বাদামতলী বাজারে জামিলা ভেরাইটিজ স্টোরে গিয়ে বডিস্প্রে কিনতে চায়। এসময় দোকানের মালিক সোহেল রানা বডিস্প্রে আনতে দোকানের এক পাশে যেতেই পুলিশের সঙ্গে থাকা জ্বাল নোটের একটি ব্যাগ তার ক্যাশ বাক্সের পাশে রাখে। তখন বাইরে থাকা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোসলেম উদ্দিন দোকানের ভেতর ঢুকে মালিককে জ্বাল টাকা রাখার অভিযোগে আটক করেন। আটক দোকান মালিক সোহেল বাদামতলী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তিনি ওই গ্রামের জিতু মিয়ার ছেলে।

এদিকে সোহেলকে আটকের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী বিক্ষোভে ফেটেপড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সহস্রোধিক বিক্ষুব্ধ জনতা জ্বাল টাকাসহ চার পুলিশ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে আটক সোহেলকে উদ্ধার করে বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এসে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের জনরোষ থেকে উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে বসিয়ে রেখে থানায় খবর দেন। এর দেড় ঘণ্টা পর বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে বিক্ষব্ধ জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে জ্বাল টাকাসহ আটক পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এব্যাপারে ভিকটিম সোহেল বলেন, সম্প্রতি জ্বাল নোটসহ একটি চক্রকে পুলিশের হাতে তুলে দিই। পরে ওই চক্রটি আমাকে হুমকি দিয়ে আসছিলো যে আমাকেও জ্বাল টাকা দিয়ে আটক করা হবে। ওই চক্রটির সঙ্গে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের কিছু সদস্যদের যোগ সাজস রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। সোহেল আরো বলেন, ওই হুমকির পরই পরিকল্পিত ভাবে পুলিশ আমাকে জ্বাল নোট নিয়ে আটকের চেষ্টা করছিলো। তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করেন।

এদিকে মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও হায়দরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা হারুন আল রশিদ মোবাইল ফোনে জানান, এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে তিনি অবগত আছেন। এরা এলাকার অপরাধীদের সঙ্গে যোগ সাজসে ভালো মানুষদের মিথ্যা অভিযোগে জড়িয়ে টাকা আদায় করে থাকে।

আটক পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যাওয়া কোন পুলিশের কোন কর্মকর্তাই সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকেও মোবইলে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *