চার জেলায় বজ্রপাতে দুই শিশুসহ নিহত ১০

বিডি নিউজ ৬৪: দেশের চার জেলায় বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে দুই শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে ছয়জন, শেরপুরে দুজন, গাইবান্ধা ও লক্ষ্মীপুরে একজন করে মারা গিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ও আজ শুক্রবার পৃথক সময়ে এ বজ্রপাতের ঘটে।

রংপুর: 
জেলার পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে দুই শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ও আজ শুক্রবার পীরগাছা উপজেলার কল্যাণি ও কুর্শা ইউনিয়নে পৃথক এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

পীরগাছা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, আজ দুপুরে কল্যাণি ইউনিয়নের বিহারি গ্রামের বাদল চন্দ্র বর্মণের ছেলে বিজয় চন্দ্র্র বর্মণ (৮) ও তার চাচাতো ভাই দীলিপ চন্দ্র বর্মণের ছেলে পরিতোষ চন্দ্র বর্মণ (১২) বজ্রপাতে আহত হয়। তাদের মাহিগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো জানান, নিহত পরিতোষ বিহারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণি এবং বিজয় একই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পীরগঞ্জে বজ্রপাতে আবদুর রাজ্জাক ও সুমন মিয়া নামে আরো দুজন মারা যান।

অপরদিকে কাউনিয়া থানার ওসি আবদুল কাদের জিলানী জানান, কাউনিয়ার কুর্শা ইউনিয়নের গোপাল গ্রামে কৃষক মনিরুজ্জামান মিয়া (৬০) ও একই এলাকার সবুর মিয়ার ছেলে শাকিল মিয়া(১৬) বজ্রপাতে আহত হন। তাদের কাউনিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

শেরপুর:
শেরপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হন আরও দুজন। নিহতরা হলেন- শেরপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের ইজ্জত আলীর ছেলে জোসনা মিয়া (৫৫) ও নালিতাবাড়ীর উপজেলার উত্তর কালিনগর গ্রামের মৃত হামিদ আলীর ছেলে মিয়া হোসেন (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে আমন আবাদের জমি তৈরির জন্য দুইজন মজুর নিয়ে হালচাষ করছিলেন সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের কৃষক জোসনা মিয়া। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে কৃষক জোসনা মিয়া নিহত ও একই গ্রামের আফালী মিয়ার ছেলে আহালু (২৮) এবং আক্তার আলীর ছেলে চান মিয়া (১০) আহত হন। এমনকি বজ্রপাতে হালচাষের একটি গরুও মারা যায়।

অপরদিকে একই দিন দুপুর ১২টার দিকে সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার উত্তর কালিনগর গ্রামের কৃষক মিয়া হোসেন ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছিলেন। এ সময় মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

শেরপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মোবারক হোসেন ও নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফসিহুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গাইবান্ধা:
জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে শরিফুল ইসলাম (৩০) নামে এক কৃষক বজ্রপাতে মারা গেছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের নুনদহ সমসপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে শরিফুল জমিতে কাজ করছিল। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

তালুককানুপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান আতিক এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লক্ষ্মীপুর: 
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের চরমণ্ডল গ্রামে বজ্রপাতে মো. সজিব হোসেন (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন সজিব হোসেনের মামা ইসমাইল হোসেন।

মৃত সজিব চররুহিতা এলাকার আবুল হাসেমের ছেলে। আহত ইসমাইল হোসেনকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি চরমণ্ডল গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাঠে কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে আহত হন ‌ইসমাইল হোসেন ও তার ভাগিনা সজিব হোসেন। তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বেলা পৌনে ১২টার দিকে  মারা যান সজিব।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *