কুড়িগ্রামে দুর্ভোগ বাড়ছে, পানিবন্দী ৬ লক্ষাধিক মানুষ

বিডি নিউজ ৬৪: কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েণ্টে বিপদসীমার ৯৭ সে.মি ও ধরলার নদীর পানি সেতু পয়েন্টে  বিপদ সীমার ৮৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে ও রাস্তা ভেঙে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় এখনও অনেক মানুষ ত্রাণ পায়নি। খাদ্য, খাবার পানির সংকটের পাশাপাশি গবাদীপশুর আশ্রয় ও গো খাদ্যের সংকটও তীব্র হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে বাঁধে ও খোলা আকাশের নিচে আশ্রিতদের দুর্ভোগ বাড়ছে। রৌমারী উপজেলা শহরের অধিকাংশ এলাকা ৩ দিন ধরে হাঁটু পানিতে ডুবে আছে। গত এক সপ্তাহে পানিতে ডুবে ও বন্যার পানিতে বিদ্যুতায়িত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায়  ব্রহ্মপুত্রে ২ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। তবে উজানে দুধকুমারে পানি স্থিতিশীল রয়েছে। এ সময়ে ধরলায় কমেছে ১২ সেন্টিমিটার।

কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আকতার হোসেন আজাদ জানান, ৯টি উপজেলার ৫৬টি ইউনিয়নের ৭১৯টি গ্রাম এখন পানির নিচে। ১ লাখ ৫০ হাজার পরিবারের প্রায় ৬ লাখ ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত রয়েছে।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব জানান, এ পর্যন্ত ৬৭৫ মে. টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বিতরণ হয়েছে ৫৭৫ মে.টন.। প্রাপ্ত ১৮ লাখ টাকার মধ্যে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। শুকনো খাবার এক হাজার প্যাকেট বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *