গুলশান হামলাকারীদের সঙ্গে মিল রয়েছে, পরিকল্পনা ছিল বড় হামলার

বিডি নিউজ ৬৪: সোয়াত, পুলিশ, র‌্যাব ও ডিবির সমন্বয়ে পরিচালিত ‘স্টর্ম-টোয়েন্টি সিক্স’ অভিযানে নিহত ৯ জঙ্গি ও আটককৃতদের বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ছিল রাজধানীতে। এমনটাই জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক।

মঙ্গলবার সকালে অভিযান শেষে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘এই জঙ্গি আস্তানায় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ছিল এদের।’

গুলশান হামলাকারীদের সাথে নিহত ৯ জঙ্গির মিল রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘নিহত জঙ্গিদের পোশাক-আসবাব, সবকিছুতেই গুলশানে হামলাকারীদের সঙ্গে মিল রয়েছে। তদন্ত শেষে এ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘জঙ্গিরা গুলি করতে করতে পালাতে চেষ্টা করেছিল। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে হ্যান্ড গ্রেনেডও ছুড়ে। তবে সতর্ক থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’ যদিও জঙ্গিদের ছুড়া গুলিতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

এসময় আইজিপির সাথে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম আ্যান্ড ট্রান্সন্যশনাল ক্রাইমের প্রধান মনিরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে কল্যাণপুরের ৫ নম্বর রোডের জাহাজ বিল্ডিংয়ের জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা প্রবেশ করেছে।

উল্লেখ্য, ভোর ৫টা ৫১ মিনিটে কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিং নামের ওই বাড়িটিতে অভিযান শুরু করে সোয়াত, র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় তাদের সাথে গোলাগুলিতে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। এক জঙ্গি গুলিবিদ্ধসহ আটক করা হয় দু’জনকে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কারো নাম পরিচয়ই জানা যায়নি।

এর আগে, সোমবার দিবাগত রাত ১টার কিছু পর কল্যাণপুরের ৫ নম্বর রোডের জাহাজ বিল্ডিং নামের ৫ তলা বাড়িটিতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরু করে পুলিশ। সে সময় বাড়ির তিনতলা পর্যন্ত ওঠার পর পাঁচতলা থেকে দুই যুবক নেমে এসে গুলি চালালে এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে গুলি লাগে। একই সঙ্গে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেলও নিক্ষেপ করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে হাসান নামে এক জঙ্গি আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। রাত প্রায় সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলি বিনিময় চলে। পরে পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখে ভোরে সোয়াত, পুলিশ, র‌্যাব ও ডিবি যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *