বিডি নিউজ ৬৪: ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে তিস্তা ও ধরলার ৬৩টি চর গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। ওইসব চর হাটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
উজান থেকে আরো পানির প্রচণ্ড স্রোত আসায় তিস্তারপাড় কাঁপিয়ে তুলেছে। বন্যায় চুলো ও টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ার কারণে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে রয়েছে বন্যা কবলিত মানুষগুলো। কোথাও হাঁটু ও কোথাও কোমড় পানির নিচে চলে গেছে রাস্তা-ঘাট, স্কুল ও বাড়ি-ঘর। ভারী বষর্ণের সঙ্গে উজানের ঢলে তিস্তা ও ধরলার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের কুলাঘাট, রাজপুর ও খুনিয়াগাছ ইউপির ১৬টি চর গ্রাম, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধণ, আরজি ছালাপাক, চণ্ডিমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এবং তুষভাণ্ডার ইউনিয়নের ২১টি চর গ্রামের মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে যেতে পারছে না। চরে প্রায় সব রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় খাদ্য ও পানীয় জলের অভাব দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকায় কোন ত্রাণ সামগ্রি পৌঁছেনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহানুর রহমান (যিনি বর্তমানে আদিতমারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন) জানান, এ উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের ২ হাজার ৩শ পরিবার ও কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও তুষভাণ্ডার ইউনিয়নের ১ হাজার ৯শ পরিবার সোমবার থেকে পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছে। এসব এলাকায় শিগগিরই ত্রাণ সামগ্রি পাঠানো হবে।
সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের ৩ হাজার পরিবার (চর বেষ্টিত) বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। চরের রাস্তাঘাট ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সরকারি সাহায্য মেলেনি।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল