তুরস্কের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের সর্বশেষ পরিস্থিতি

বিডি নিউজ ৬৪: স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় অভ্যুত্থানচেষ্টাকারী সেনারা বিদ্রোহ শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিদ্রোহী সেনারা ইস্তাম্বুলের প্রধান সেতুগুলোতে ট্যাঙ্ক মোতায়েন করে অবস্থান নেয়। এরপর কিছুক্ষণ পর রাজধানী শহর আঙ্কারাতেও বিদ্রোহী সেনাসদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা যায় এবং শহরটির ওপর জঙ্গিবিমান উড়তে শুরু করে।

এ সময় বিদ্রোহী সেনাদের একটি দল ঘোষণা করে একটি ‘পিস কাউন্সিল’ এখন দেশ চালাচ্ছে এবং দেশে এখন কারফিউ এবং সামরিক আইন চলছে। এরপর ইস্তাম্বুলের কেন্দ্রীয় তাকসিম স্কয়ার এবং আঙ্কারার সংসদ ভবনে বড় বড় বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়।

মার্কিন টেলিভিশন ও বার্তা সংস্থা সিএনএন এর তুর্কি শাখার সদর দপ্তর দখল করে নেয় বিদ্রোহী সেনাসদস্যরা এবং চ্যানেলটির সম্প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তার আইফোন এবং ফেস টাইমের মাধ্যমে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তিনি জনগণকে রাস্তায় নেমে বিদ্রোহী সেনাদের প্রতিরোধের ডাক দেন।

এরদোয়ানের ডাকে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারার রাস্তায় সরকার সমর্থকরা স্রোতের মতো নেমে আসেন। এ সময় বিদ্রোহী সেনাদের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষ বেঁধে যায়। গুলি বর্ষণ ও বোমার বিস্ফোরণে অন্তত ৬০ জন নিহত এবং দেড় শতাধিক মানুষ আহত হন। নিহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক।

শনিবার সকালে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে ইস্তাম্বুলে তার সমর্থকদের এক সমাবেশে দেখা গেছে। এ সময় তিনি জানান, সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কর্ম’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং সেনাবাহিনীতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি জনতার উদ্দেশে আরো বলেন, তার সরকারের হাতেই এখন দেশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়েলদ্রিম বিদ্রোহী সেনাদের আকাশযানগুলোকে গুলি করে নামানোর আদেশ দেন সেনাবাহিনীকে। বিদ্রোহী সেনাদের ১৬ জনকে হত্যা এবং ৭৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিখোঁজ সেনাপ্রধান হুলুসি আকারকে আঙ্কারার উত্তর-পশ্চিমের একটি বিমানঘাঁটি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিদ্রোহী সেনারা তাকে জিম্মি করে রেখেছিল বলে এর আগে ধারণা করা হচ্ছিল।

পুলিশপ্রধান জানিয়েছেন, আঙ্কারার প্যারামিলিটারি বাহিনীর সদর দপ্তরে বিদ্রোহী সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে। এতে ১৬ বিদ্রোহী নিহত হন এবং ২৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। ওই সংঘর্ষ শিগগিরই শেষ হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশপ্রধান।

তিন কারণে অভ্যুত্থানটি ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে- ১. তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক সেনাসদস্য বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেছেন। ২. সিনিয়র কমান্ডাররা প্রকাশ্যেই এর বিরোধিতা করেছেন। ৩. সেনা বিদ্রোহ ঠেকাতে জনগণ বানের জলের মতো রাস্তায় নেমে এসেছেন।

বিবিসির সংবাদদাতা কেটি ওয়াটসন জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুলের রাস্তাগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে এবং জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এদিকে রাজধানী আঙ্কারায় এক জরুরি সংসদীয় বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের রয়াল ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স এর ফাদি হাকুরা জানিয়েছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সফলভাবেই এই সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা দমনে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে এই ঘটনায় প্রমাণিত হয় তুরস্ক দিনকে দিন আরে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে সংঘাত চলছে তার ঢেউও আছড়ে পড়তে শুরু করেছে তুরস্কের ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *