বিডি নিউজ ৬৪: প্রথম ৭ বলে পড়ে গেলো জ্যামাইকা তাল্লাওয়াহসের ৪ উইকেট। গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের দেওয়া ১২৯ রানের টার্গেট তখন অনেক দূরের পথ মনে হচ্ছে। ইনিংসের ষষ্ঠ বল খেলেছেন সাকিব আল হাসান। এরপর অসাধারণ ব্যাটিংয়ে জ্যামাইকাকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন বাংলাদেশের সেরা অল রাউন্ডার। ৪৭ বলে ৭ চারে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকলেন সাকিব। ৭ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক ক্রিস গেইল অপরাজিত ৪৫ রানে। ২৫ বল হাতে রেখেই জিতেছে জ্যামাইকা।
বাংলাদেশ সময় আজ সকালের ম্যাচে নিজেদের মাঠ স্যাবাইনা পার্কে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলতে নামে জ্যামাইকা। বোলিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১২৮ রানে তারা থামায় গায়ানাকে। ২ ওভারে ২০ রানে ১ উইকেট নেন সাকিব। এরপর চূড়ান্ত বিপদে জ্যামাইকা পড়ে ব্যাটিংয়ে নেমেই। সাকিব দলের হাল ধরেন। ষষ্ঠ উইকেটে গেইলের সাথে অবিচ্ছিন্ন ৮৭ রানের জুটি গড়েন তিনি। তাতে কঠিন জয়টা সহজ হয়েছে। এক হারের পর আবার জয়ে ফিরেছে জ্যামাইকা। ম্যান অব দ্য ম্যাচ অবশ্যই সাকিব।
পাকিস্তানি পেসার সোহেল তানভির শুরুতেই জ্যামাইকাকে চাপে ফেলেন। গেইল ফিল্ডিংয়ের শেষটায় সমস্যায় মাঠ ছেড়েছিলেন। ওপেন করতে পারেননি। ইনিংসের দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ বলে উইকেট নিলেন তানভির। ওভারের মাঝে রান আউট হলেন আন্দ্রে ম্যাকার্থি। পরের ওভারের প্রথম বলেই অভিজ্ঞ কুমার সাঙ্গাকারা (০) আউট! ২ রানে ৪ উইকেট নেই জ্যামাইকার! কি বিপদ!
সাকিবের কলকাতা নাইট রাইডার্স সতীর্থ আন্দ্রে রাসেল দ্বিতীয় ওভারে একটি ছক্কা ও একটি চার মারলেন। পরের ওভারে তানভিরকে দুটি বাউন্ডারি মারেন সাকিব। তাতে চাপ কিছুটা কমলেও বিপদ তো আর কমেনি। সাকিব-রাসেল জুটি অবশ্য টিকলো পঞ্চম ওভার পর্যন্ত স্পিনার ভিরাস্বামি পারমল তুলে নিলেন ২৪ রান করা রাসেলকে। জ্যামাইকার তখন ৪৫ রান।
গেইলে এলেন। সাকিব পরের ওভারে পেসার আলি খানকে তিনটি বাউন্ডারি মারলেন। এই দিনটি সাকিবের, বারবার বোঝা যাচ্ছিল। গেইলও আক্রমণ শুরু করেন। পারমলকে আক্রমণ থেকে সরিয়ে দেন ২টি ছক্কা ও ১টি চার মেরে। সাকিব-গেইল জুটির বোঝাপড়াও ছিল চমৎকার। ১০ ওভারের মধ্যেই ম্যাচটাকে নিজেদের হাতে ঘুরিয়ে আনেন তারা। সাকিব খেলেছেন পরিচ্ছন্ন ইনিংস। গ্যাপ খুঁজে তার মারা চার গুলো চোখ জুড়িয়েছে। মাস্টার ইনিংস খেলে সাকিব এবারের সিপিএলে প্রথমবারের মতো হয়েছেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল