বিডি নিউজ ৬৪: ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় নিস শহরে শুক্রবার সকালে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের মধ্যে বেশকিছু মুসলিম রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাস্তিল দূর্গ পতন দিবস উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটিতে শুক্রবার শহরের সমুদ্র সৈতকে জড়ো হয়েছিল ফ্রান্সের অনেক নাগরিক। এমন সময় ট্রাক চালিয়ে আসা এক সন্ত্রাসীর নির্বিচার গুলিতে সেখানে ৮৪ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়।
হামলার সময় সেখানে উপস্থিত থাকা ইরানি সাংবাদিক মরিয়াম ভায়োলেট ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘ওই ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে অনেক মুসলিমও রয়েছে। কারণ আমি অনেকের মাথায় স্কার্ফ পরা দেখেছি এবং তারা আরবিতে কথা বলছিল। এক পরিবারের একজন মা মারা যাওয়ার পর তারা বলছিল, ‘তিনি একজন শহিদ।’
ওই নারী সাংবাদিক আরো বলেন, ‘লোকজন চিৎকার করে কান্নাকাটি করছিল, এটা একটা সন্ত্রাসী হামলা। এটা স্পষ্ট যে ওই ট্রাক ড্রাইভার ইচ্ছা করেই ঘটনাটি ঘটিয়েছে।’
এখন পর্যন্ত ওই হামলার উদ্দেশ্য জানা যায়নি। তবে হামলাকারী পুলিশের পরিচিত ছিল বলে জানিয়েছে তারা। তার বিরুদ্ধে চুরিসহ ছোটখাটো অভিযোগও ছিল। ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠি জড়িত কিনা তা এখনো নিশ্চিত করেনি ফ্রান্স।
এদিকে ওই হামলাকে ‘বর্বর’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানিয়েছে ফরাসি মুসলিম কাউন্সিল। কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়: ‘আরো একটি তীব্র সন্ত্রাসী হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হলো ফ্রান্স। আমাদের জাতীয় দিবসকে কেন্দ্র করেই বর্বর হামলাটি চালানো হল। এই দিবসটি হচ্ছে, স্বাধীনতা, সমতা এবং ভ্রাতৃত্বের দিন।’
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে হতাহতদের জন্য দোয়া করতে সব মুসলিমের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে তারা। ওই ঘটনা পরবর্তী অবস্থা মোকাবেলায় সব ধর্ম-সম্প্রদায়ের সাহায্য চেয়েছে নিস শহরের মেয়র ক্রিশ্চিয়ান এসট্রোসি। সব ইমাম, খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মগুরুদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সে বসবাসকারী মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবচে বেশি মুসলিম বাস করে ফ্রান্সেই। এর আগে গত বছর রাজধানী প্যারিসে আইএসের হামলার ঘটনায় হতাহতদের মধ্যেও কয়েকজন মুসলিম ছিল।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল