বিডি নিউজ ৬৪: জাপানি মুসলিমদের ওপর সর্বোতভাবে দেশটির সরকারের নজরদারি অব্যহত রাখার অনুমোদন দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। এর আগে জাপান সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির মুসলিমদের করা এক মামলার রায়ে এ অনুমোদন দেয় আদালত। ২০১০ সালে ওই মামলাটি করা হয়েছিল।
মুসলিমদের ওপর জাপানি পুলিশের নজরদারি বিষয়ে ২০১০ সালে ১১৪টি গোপন নথি ফাঁস হয়ে যায়। এতে দেখা যায়, মুসলিমদের প্রার্থনাগার, হালাল রেস্তোরাঁ এবং রাজধানী টোকিওতে অবস্থিত ইসলাম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন সার্বক্ষণিক নজরদারি করে পুলিশ।
ওই নথি ফাঁসের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা বিশ্বের ২০টি দেশ থেকে কমপক্ষে ১০ হাজার বার ডাউনলোড করা হয়। এরপরই বিষয়টিকে ব্যক্তিগত এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় অসাংবিধানিক হস্তক্ষেপ উল্লেখ করে নিম্ন আদালতে একটি মামলা দায়ের করে ১৭ জাপানি মুসলিম। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে ওই নজরদারিকে ‘প্রয়োজনীয় এবং অপরিহার্য’ বলে রায় দেয় আদালত।
পরে বাদীরা উচ্চ আদালতে আরো দুটি আপিল করলে বিষয়টিকে গোপনীয় বিষয় লঙ্ঘন বিবেচনা করে এর জন্য ১৭ জন বাদীকে ৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। তবে নজদারি বিষয়ে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে উচ্চ আদালত।
মামালার বাদীদের একজন জাপানের মোহাম্মদ ফুজিতা। ২০ বছর আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তিনি। ফুজিতা বলেন, ‘তারা আমাদের সন্ত্রাসী বানিয়েছে। অথচ আমরা অন্যায় কিছু করিনি।’ বাদী পক্ষের আইনজীবী জুনকো হায়াসি বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে, আমরা কোনো সাংবিধানিক মামলা দিতে পারি না। তবে কাজটি যে সাংবিধানিক না, তা আমরা দেখানোর চেষ্টা করছি।’
বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন মার্কিন গোপন নথি ফাঁস করা গোয়েন্দা অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন। এ বিষয়ে ওয়েবলিঙ্কের মাধ্যমে একটি সিম্পোজিয়ামে তিনি বলেন, ‘ইসলামে বিশ্বাসী লোকদের এসব কাজে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। অথচ তারা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা এ সংক্রান্ত অন্যকিছুতেও জড়িত নয়। শুধু ভীতির কারণেই এ কাজগুলো করা হচ্ছে।’
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল