বিডি নিউজ ৬৪: মানুষ খুনের অভিযোগে সরকারের নির্দেশদাতা এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হবেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘এটাই দেশ ও বিদেশের সর্বস্বীকৃত বিধান।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।
প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যে প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে একটির বদলে দশটি লাশ ফেলার হুমকি দেন, সেই হুমকি কি শান্তির ললিত বাণী, নাকি সহিংস সন্ত্রাসের অভয়বাণী? দেশবাসী তা ভাল করেই জানে। তাঁর এই হুমকি কি উগ্রবাদী জঙ্গিদের সমতুল্য নয়? কাউকে জঙ্গি হিসেবে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে থাকার পরও বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করা কি সভ্যতা নাকি অসভ্য বর্বরতা?’
রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ফাহিমের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের মায়াকান্না, কুমিরের কান্না।’ পৃথিবীর কোন দেশে আছে, আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত শেষ না হতেই রিমান্ডে থাকা অভিযুক্ত একজন আসামিকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়? অথচ রিমান্ড হচ্ছে কারাগারের চেয়ে আরো নিশ্ছিদ্র কাস্টডি। সেইখানে সে (ফাহিম) বন্দুকই বা পেল কোথায় আর যুদ্ধই বা করলো কখন? সেখানে তাকে হত্যা করা হলো। এটি সাজানো বলে মানুষ বিশ্বাস করে। তারা আরো বিশ্বাস করে, এটি সরকারের একটি কারসাজি।’
এ প্রসঙ্গে রিজভী আরো বলেন, ‘এভাবে আপনার-আমার সন্তান ও ছোট ভাইকে যদি ধরে নিয়ে জঙ্গি সাজিয়ে হত্যা করা হয়, তখন নিরাপত্তা থাকবে কোথায়? এই জন্য দেশের একজন নেত্রী (খালেদা জিয়া) তিনি কি জনগণের মনের আওয়াজের প্রতিধ্বনি করবেন না? তিনি মানুষের নিরাপত্তার কথা বলবেন না? সেই নিরাপত্তার ব্যাপারে বিএনপির চেয়ারপারসন মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি করেছেন।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে না নিয়ে, তদন্ত না করে, বিচার না করে বন্দুকযুদ্ধের নামে বন্দিকে দস্যুদের মতো হত্যা করে পরবর্তীতে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে যখন প্রধানমন্ত্রীর মুখে মৃদুমন্দ হাসি ফুটে উঠে, সেই হাসি কি হায়েনার হাসি নয়?’
তিনি দাবি করে বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি বন্দিশালায় কোনো বন্দিকে হত্যা করা হলে সেজন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী সরকার। মানুষ খুনের অভিযোগে সরকারের নির্দেশদাতা এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হবেই, এটাই দেশ ও বিদেশের সর্বস্বীকৃত বিধান।’
প্রসঙ্গত, মাদারীপুরে শিক্ষককে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আটক ফাইজুল্লাহ ফাহিম পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিন্দা জানানোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (২৯ জুন) সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘ফাহিমকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা নিয়ে’ খালেদার বক্তব্যকে ‘মায়াকান্না’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাদারীপুরে শিক্ষককে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার জঙ্গি ফাইজুল্লাহ ফাহিম পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর তার জন্য খালেদা জিয়া কেন এতো মায়াকান্না করছেন? যে লোকটা (ফাহিম) একজন কলেজ শিক্ষককে মারতে গিয়ে জনগণের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে, তার জন্য খালেদা জিয়ার এত কথা কেন- এটা আমার প্রশ্ন’
সংবাদ সম্মেলনে রিজভীর সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সেলিমুজ্জামান সেলিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মেহবুব মাসুম শান্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার বসু (মিন্টু) প্রমুখ।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল