বিডি নিউজ ৬৪: দেশের ৬টি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পে ২০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম সহযোগী দেশ জাপান। দেশটির ৩৭তম (ওডিএ) ঋণ প্যাকেজের আওতায় এই অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৬টি বড় প্রকল্পের বিপরীতে সহজ শর্তে এই ঋণ দেবে জাপান। প্রকল্পগুলো হলো- যমুনা নদীর উপর রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্প, আন্তঃসীমান্ত সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্প (বাংলাদেশ), ঢাকা ম্যাস রেপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয়), মাতারবাড়ী আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা ভিত্তিক প্রকল্প-২, এনার্জি ইফিসিয়েন্সি এ্যান্ড কনজারভেশন প্রমোশন ফিনান্সিং প্রকল্প এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (জাপান) সিনিয়র সহকারী প্রধান খাদিজা পারভীন বাংলামেইলকে বলেন, ‘আজ (বুধবার,২৯ জুন) বাংলাদেশ সরকার ও জাপানের মধ্যে এ সংক্রান্ত এক চুক্তি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন-২ কক্ষে দুপুর দুইটায় এই বিনিময় নোট ও ঋণ চুক্তি অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিনিময় নোট চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আজম ও জাপানের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।’
অপরদিকে ঋণ চুক্তি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আজম ও জাপানের পক্ষে দেশটির আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা জাইকার চিফ রিপ্রেজেনটিটেভ মিকিও হেতাদে নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বলে জানান খাদিজা পারভীন।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ রেলওয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে যমুনা নদীর ওপর ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলসেতু নির্মাণ করবে। এই প্রকল্পটিতে ব্যয় হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন অপেক্ষায় রয়েছে।
আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক বাধাসমূহ অতিক্রমের লক্ষ্যে আন্তঃসীমান্ত সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্প (বাংলাদেশ) এ বছরের ২৬ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রোববার (২৬ জুন) ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাস রেপিড ট্রানজিট (এমআরটি) উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন।
মাতারবাড়ী আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে- বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। এছাড়া এনার্জি ইফিসিয়েন্সি এ্যান্ড কনজারভেশন প্রমোশন ফিনান্সিং প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশে জ্বালানী ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল