প্রবীণ-তরুণের টানাপোড়েনে ঝুলছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি

বিডি নিউজ ৬৪: কাউন্সিলের ৩ মাসেও নানামুখী টানাপোড়েনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারছে না দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। গত ১৯ মার্চ দলটির জাতীয় কাউন্সিলের পর তিন ধাপে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে দলের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। গত ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপে কেন্দ্রীয় কমিটির ২০ সহ-সম্পাদকের নাম ঘোষণার পর থেমে যায় পুরো প্রক্রিয়া।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় বিলম্ব নিয়ে কথা হয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে। নাম গোপন রাখার শর্তে তারা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, নতুনদের বেশি প্রাধান্য দেয়া নিয়ে সিনিয়র নেতাদের অসন্তোষের মুখে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে শিগগিরই কমিটি ঘোষণা করা হবে।

৬ষ্ঠ কাউন্সিলে কমিটি গঠনের সর্বময় ক্ষমতা দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর ন্যস্ত করা হয়। ওই ক্ষমতাবলে ৩০ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া প্রথম ধাপে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারমুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ পদে মিজানুর রহমান সিনহার নাম ঘোষণা করেন।

দ্বিতীয় ধাপে গত ৯ এপ্রিল দলের ৭ যুগ্ম মহাসচিব ও ৯ সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন দলের চেয়ারপারসন।

কাউন্সিলের ২৯ দিন পর তৃতীয় ধাপে গত ১৮ এপ্রিল ঘোষণা করা হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ২০ সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম। এর সঙ্গে ঘোষণা করা হয় কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের নামও।

এ নিয়ে কাউন্সিলের প্রায় তিন মাসে দলের মহাসচিব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, কোষাধ্যক্ষ, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে  ৪২  নেতার নাম ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

পদ-পদবি পরিবর্তন নিয়ে বিএনপিতে অসন্তোষ এবারই নতুন নয়। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া নিয়ে ওই সময় প্রবল আপত্তি তোলেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। এবারও কাউন্সিলের শুরুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে ঘোষণা না করার পেছনে একই কারণ বলে অভিযোগ অনেকের।

সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে দলের সিনিয়র নেতাদের ব্যর্থতায় তরুণদের সামনে আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় হাইকমান্ড। একই সঙ্গে দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী এবং গতিশীল করতে এক নেতার একপদ কৌশলও গ্রহণ করা হয়।

দলের নীতিগত এ অবস্থানের কারণে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হওয়ার পর পরই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অঙ্গ ও সহাযোগী সংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চেয়ারপারসনের কাছে আবেদন জানান।

রিজভী আহমেদকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, আসলাম চৌধুরীকে যুগ্ম মহাসচিব মনোনয়ন দেয়া নিয়েও আছে অসন্তোষ।

কাউন্সিলের পর বরিশালের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিলকিস জাহান শিরিন। বরিশালের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, নতুন এ দায়িত্ব শিরিনকে দেয়ায় খুশি হননি ওই অঞ্চলের প্রভাবশালী এক নেতা।

ব্যর্থতার দায়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি থেকে বাদ পড়েন খোকা ও সালাম। তরুণ-প্রবীণ মির্জা আব্বাস-হাবিব উন নবী খান সোহেলের সমন্বয়ে দেয়া হয় নতুন কমিটি। মহানগর কমিটিতে সোহেলকে মানতে পারেননি মির্জা আব্বাস। ফলে গতি পাচ্ছে না মহানগর কমিটির কার্যক্রমও।

অভ্যন্তরীণ বিরোধে মঙ্গলবার (১৪ জুন) ফরিদপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চেয়ারপারসনের কাছে চিঠি দিয়েছেন আলী নেওয়াজ মাহামুদ খৈয়ম। তিনি বাংলামেইলকে জানান, ‘দলের এক নেতার এক পদ নীতির কারণেই সহ-সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছি। আমি এই পদের পাশাপাশি রাজবাড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি। সে কারণে সহ-সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছি।’

তবে খৈয়মের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, রাজবাড়ি জেলা বিএনপির নেতৃত্বে খৈয়ম রয়েছেন দীর্ঘ দিন ধরে আর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক তার নতুন পদ। নতুন পদ ছেড়ে তিনি তার রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট করেছেন যে, শামা ওবায়েদ যেখানে সাংগঠনিক সম্পাদক সেখানে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আলী নেওয়াজ মাহামুদ খৈয়ম বেমানান। জুনিয়রকে বড় পদে রেখে তার অধীনে জ্যেষ্ঠ নেতাদের  রাজনীতি করা রীতিমতো অস্বস্তির।

আলী নেওয়াজ মাহামুদ খৈয়মের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি রাজবাড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি। সে কারণে ফরিদপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছি।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা বাংলামেইলকে বলেন, ‘তরুণদের প্রাধান্য দিতে গিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের যথার্থ মূল্যায়ন হচ্ছে না। উপযুক্ত পদ না পেলে জ্যেষ্ঠ নেতাদের রাজনীতি করার সুযোগ থাকে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *